After marriage, the wife had to be left in the priest's house for a few nights! বিয়ের পর কয়েক রাতের জন্যে স্ত্রীকে রেখে আসতে হতো ঠাকুরের ঘরে!


In the first part, the discussion centers around Indian politics, examining Prime Minister Narendra Modi’s religious identity and political strategy. Under Modi's leadership, the BJP has capitalized on religion as a political asset, helping him secure the prime minister's office three times. Modi’s Facebook page often reflects religious content and devotion to cows, forming part of his political campaign. During elections, he attempts to appeal to various religious communities, sometimes positioning himself as anti-Muslim and other times as a supporter of Muslims. Modi frequently references his connections to Buddhists, Christians, and indigenous people as part of his political strategy.

In the next section, a more detailed analysis of Modi's political actions and the influence of his religious identity will be presented.


After marriage, the wife had to be left in the priest's house for a few nights!

Modi’s administration continues to promote religious fervor, with India now a leading exporter of beef. Despite Modi’s performance in showing respect towards women, he occasionally exhibits tendencies of mere formality. Although India has advanced in science and knowledge, poverty, religious fanaticism, and illiteracy still persist among a significant portion of the population. Through social media, Modi has been able to control public opinion, enabling prolonged governance in India.

Public loyalty to the BJP is such that people are willing to vote them into power almost without question. Supporters see Modi as a deity, even likening him to an incarnation of Sri Ramachandra. Nonetheless, contemporary India is weak in political, economic, and ethnic harmony. Three years ago, a land loss of 58,000 square kilometers to China represented one of the nation’s greatest post-independence setbacks. Initially, Modi’s government denied this land loss but later acknowledged losing 38,000 square kilometers. When this issue spread across the country, Modi visited the Ladakh border by helicopter to rally the border guards, attempting to raise public morale with patriotic slogans, though questions remain about its effectiveness.


The day after Modi's visit, China’s military inaugurated a settlement on Indian land, a critical concern for the nation. In recent years, inflation, unemployment, innovation rates, educational standards, and quality of life have drastically declined in India. While a large population is still forced to defecate in the open, many remain satisfied with Modi. Despite Modi’s popularity, some even refer to him as a god. However, in the last general election, the BJP couldn’t secure an outright majority and had to form a coalition government. Although they aimed for 400 seats, the BJP won only 360.

The Modi government’s main strategy of religious division didn’t prove as effective this time. Ordinary people are beginning to realize that relying on religious slogans yielded little benefit. Many government projects, such as the Mahalakshmi Scheme, failed to benefit the general populace. Despite constructing a Ram temple on the site of the Babri Masjid, the BJP’s influence weakened, with Modi winning his seat by a narrow margin of only 60,000 votes, marking one of the lowest margins for an Indian Prime Minister.


Modi’s use of “Didi” and other religious icons has accelerated public understanding of the true purpose of religion. While some Hindus were encouraged to consume cow urine and dung in religious devotion, Modi has never been seen practicing such acts himself. BJP rallies often contain anti-Muslim rhetoric, though Modi has also praised Allah when convenient. Modi and Amit Shah's strategies shift based on circumstances, with a clear divide between Brahmins and non-Brahmins. Lower-caste Hindus have been oppressed by upper castes for millennia, and while they may associate with Muslims, Christians, Sikhs, and Jains, they cannot easily coexist with upper-caste Hindus.

With 6,700 castes, intermarriage and communal dining remain forbidden, and during festivals like Durga Puja, offerings must be placed below for lower castes. This division has disrupted the RSS’s dream of a united India, with many lower-caste Hindus voting for Muslim candidates over BJP candidates. The RSS's desire to eliminate Muslims has led to issues in Jammu and Kashmir and Khalistan, pushing India towards fragmentation. Some BJP leaders still envision a united Hindu India, free of other religions.


The grand plan of Hindu supremacists extends from Afghanistan to Bangladesh, possibly even incorporating Mecca. While some dream of this vision while drinking cow-based beverages, figures like Veer Savarkar and Shivaji dreamed not only of Afghanistan but even Mecca as part of this Hindu state. However, even if their dream were realized, would equality exist in this Hindu-dominated India? This vision of an undivided India would still feature two classes: the ruling Brahmins and the subjugated masses.

In this vision, Brahmins would have exclusive rights to education and religious texts, with non-Brahmins barred even from touching these scriptures. The ancient Manusmriti dictated this social hierarchy, stating that Shudras were born solely to serve the Brahmins. The text, believed to be compiled by the sage Manu around 2000 BCE, is considered one of Hinduism's oldest sacred texts.


The Manusmriti consists of 12 chapters and 2,683 verses, laying down rules on family, social, and economic hierarchy. According to the text, Shudras were created to serve the Brahmins. The first chapter of the Manusmriti asserts that Brahmins emerged from the mouth of the creator, the Kshatriyas from his arms, the Vaishyas from his thighs, and the Shudras from his feet, establishing a rigid caste hierarchy. Other Hindu scriptures echo this caste division, like the Rigveda, which describes the divine origin of Brahmins, Kshatriyas, Vaishyas, and Shudras.


Various scriptures, including the Atharva Veda, Yajur Veda, and Sama Veda, reference this caste system, leading to a deeply entrenched division among Hindus. In India today, caste still divides society, with lower castes often identifying as separate religions, as seen with Sikhs and Matua communities. Religious tolerance has been emphasized in Buddhism, Christianity, and Islam, but in Hinduism, political agendas sometimes fuel discrimination. Radical Hindu groups like the BJP, RSS, and Hindu Mahasabha have periodically attacked dissenting groups, leading to calls for action to end such oppression.

The dream of converting the subcontinent under the shadow of Hindutva is ancient, with unspoken horrors inflicted on lower castes for thousands of years. This narrative is a testament to the deep-rooted divisions that continue to shape Indian society today.


-----------------------------------

প্রথম অংশে ভারতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ধর্মকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছে, যা তাকে তিনবার দিল্লির মসনদে বসতে সাহায্য করেছে। মোদির ফেসবুক পেজে ধর্মীয় বিষয়বস্তু এবং গরুর প্রতি ভক্তি প্রকাশ পায়, যা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। তিনি ভোটের সময় বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সমর্থন দেখানোর চেষ্টা করেন, কখনো মুসলিম বিরোধী এবং কখনো মুসলমানদের পক্ষের লোক হিসেবে পরিচয় দেন। মোদির বক্তব্যে বুদ্ধ, খ্রিস্টান এবং আদিবাসীদের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়, যা তার রাজনৈতিক কৌশলের একটি অংশ। 

এখন, পরবর্তী অংশে মোদির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তার ধর্মীয় পরিচয়ের প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

ধর্মীয় উন্মোদনা তৈরির কাজটি অব্যাহত রেখেছে মোদির সরকার, যেখানে গরুর মাংস রপ্তানিতে ভারত এখন শীর্ষস্থানীয় দেশ। নারীদের প্রতি সম্মান দেখানোর অভিনয় করলেও, মোদির মাঝে মাঝে হাত মেলানোর প্রবণতা দেখা যায়। ভারত জ্ঞানবিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে গেলেও, বিশাল জনগণের মধ্যে দারিদ্রতা, ধর্মান্ধতা এবং মূর্খতা এখনও বিরাজমান। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করে মোদি দীর্ঘ সময় ধরে ভারত শাসন করে আসছেন। 

বিজেপির প্রতি জনগণের আনুগত্য এতটাই যে, তারা যে কাউকেই ভোটে জিতিয়ে দিতে প্রস্তুত। মোদির সমর্থকরা তাকে দেবতার রূপে দেখেন, এমনকি তাকে শ্রী রামচন্দ্রের অবতার হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে, বর্তমান ভারত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জাতিগত সম্প্রীতির ক্ষেত্রে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তিন বছর আগে চীনা সেনাবাহিনীর কাছে 58 হাজার বর্গ কিলোমিটার জমি হারানোর ঘটনা ঘটেছিল, যা স্বাধীনতার পর দেশের জন্য একটি বড় দখল। 


মোদি সরকার প্রথমে এই ভূমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে 38 হাজার বর্গ কিলোমিটার জমি দখলের কথা স্বীকার করে। যখন এই ঘটনা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন মোদি সোশ্যাল মিডিয়ায় হেলিকপ্টারে লাদাখ সীমান্তে গিয়ে সীমান্ত রক্ষীদের উদ্দেশ্যে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। তিনি ভারত মাতার জন্য উল্লাস প্রকাশ করে জনগণের মধ্যে উৎসাহ জাগানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু এই প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বলিউডের বিবেক অগ্নিহা সিনেমা নয় মোদির সফরের পরের দিন চীনের সেনাবাহিনী ভারতের জমিতে একটি বিশেষ গ্রাম উদ্বোধন করে, যা দেশের জন্য একটি বড় সংকট হিসেবে দেখা দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্বের হার, উদ্ভাবনী সূচক, শিক্ষার মান এবং জীবনযাত্রার মানে ব্যাপক পতন ঘটেছে। দেশের বিস্তৃত অংশের মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে মল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়, তবুও তারা মোদির প্রতি খুশি। 


মোদির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হলেও, কিছু মানুষ তাকে ভগবান বলে সম্বোধন করতে শুরু করেছে। তবে, শেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আগেরবারের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারেনি এবং শরিকদের নিয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হয়েছে। নির্বাচনের আগে 400 আসন পাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, বিজেপি মাত্র 360 আসনে জয়লাভ করে। 

মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় ট্রাম্প কার্ড ছিল ধর্মীয় বিভাজন, কিন্তু এবার তা কার্যকর হয়নি। সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করেছে যে ধর্ম ব্যবসার ফাঁদে পা দিয়ে তারা কিছুই পায়নি। মোদি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন মহাক্ষ্মী যোজনা, সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকরী প্রমাণিত হয়নি। বাবরি মসজিদে রাম মন্দির নির্মাণের পরও বিজেপির অবস্থান দুর্বল হয়েছে, এবং মোদির নিজের আসনেও মাত্র 60,000 ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে, যা ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড।



সম্মানীয় আদরণীয় দিদি ওদি মোদির ধর্মীয় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ভারতের মানুষের মধ্যে ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। সাধারণ হিন্দুদের গরুর মূত্র ও গোবরের লাড্ডু খাওয়ানোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মোদির নিজে কখনো গরুর মলমূত্র খেতে দেখা যায়নি। বিজেপির জনসভায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর পাশাপাশি, প্রয়োজনে আল্লাহর গুণগান করতেও তাকে দেখা গেছে। 


মোদি ও অমিত শাহের কৌশল হলো পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিনয় করা, তবে ব্রাহ্মণ ও অব্রাহ্মণদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট। নিম্নবর্ণের হিন্দুরা উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের কাছে হাজার বছর ধরে নির্যাতিত হয়েছে, এবং মুসলমান, খ্রিস্টান, শিখ কিংবা জৈনদের সাথে বসতে পারলেও নিম্নবর্ণের হিন্দুর সাথে এক ঘরে বসা বা একই থালে খাবার খাওয়া অসম্ভব। 

ভারতে 6700 জাতের মধ্যে একটির সাথে অন্যটির বিয়ে দেওয়া হয় না এবং একসাথে খাওয়া হয় না। দুর্গাপূজোর সময় সার্বজনীন পূজায় নিম্নবর্ণের মানুষের প্রসাদ নিচে রাখতে হয়। এই কারণে বিজেপি ও আরএসএসের অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দ্বিখন্ডিত হয়েছে, এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুরা বিজেপির প্রার্থীদের পরিবর্তে মুসলমান প্রার্থীদের ভোট দিয়েছে। আরএসএস মুসলমানদের ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর ও খালিস্তান পরিস্থিতি ভারতের বিভাজনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু বিজেপি নেতা এখনও অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে হিন্দু ছাড়া আর কেউ থাকতে পারবে না।


থাকতে পারে যদি তারা ধর্ম পাল্টায়, উচ্চবর্ণের হিন্দুদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশ পুরোটাই হবে এক অভিন্ন ভারত। কিছু কিছু লোক মক্কা পর্যন্ত ভারতের সাথে যুক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন, যেখানে গোবরের জুস খেতে খেতে হিন্দু রাষ্ট্রের বড় স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। বীর সাবরকার ও শিবাজির স্বপ্ন কেবল আফগানিস্তান নয়, বরং মক্কা পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে প্রশ্ন হলো, যদি তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কি হবে? 

ভারতের হিন্দুরা বিভক্ত হয়েছে এই প্রশ্নে। যদি সবাই হিন্দু হয়ে যায়, তাহলে কি সবাই সমান অধিকার পাবে? হিন্দুদের নিয়ে গড়া স্বপ্নের অখন্ড ভারতেও থাকবে দুটি শ্রেণী: একটি ব্রাহ্মণ এবং অন্যটি নমশূদ্র। একদল শাসক এবং অন্যদল শোষিত, যেখানে প্রভু ও ভৃত্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। ব্রাহ্মণরা সমাজের উঁচু শ্রেণী হিসেবে বিদ্যা অর্জনের স্বাধীনতা পাবে, কিন্তু অন্যরা সাধারণ শিক্ষা তো দূরের কথা, নিজেদের ধর্মীয় গ্রন্থও ছুঁতে পারবে না। 


সংস্কৃত ভাষায় লেখাপড়া করলে বা বললে শূদ্রদের চিপ কাটা হতো, এবং তাদের সমাজিক মর্যাদা চাওয়ার অপরাধে চোখ উড়িয়ে ফেলা হতো। উচ্চবর্ণহীনদের জন্য ব্রাহ্মণদেরই থাকবে ভগবানের প্রার্থনা করার অধিকার, কারণ ভগবান ও ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা গ্রহণ করা হয় না। নমশূদ্ররা পৃথিবীতে এসেছেন শুধুমাত্র ব্রাহ্মণদের সেবা করার জন্য, সারাদিন কাজ করলেও তাদের সম্পদ অর্জনের কোন অধিকার থাকবে না। যদি শূদ্ররা কখনো কোন ধন সঞ্চয় করে, তবে ব্রাহ্মণরা যেকোনো সময় সেই ধন কেড়ে নিতে পারেন। নমশূদ্রদের কেউ কোন নারীকে বিয়ে করতে পারবে না, যা তাদের সামাজিক অবস্থানকে আরও সংকীর্ণ করে।



চাইলে ওই নারীকে প্রথমে ব্রাহ্মণের কাছে রেখে আসতে হবে, এবং ব্রাহ্মণ যদি খুশি হন, তাহলে তাকে আবার নমশূদ্রের কাছে ফেরত দিতে পারবেন। বেদের মুনিঋষিরা কন্যাকে বিয়ে করতেন, যেমন বশিষ্ঠ নিজের কন্যা শত্রুপাকে বিয়ে করেন এবং দেবরাজ ইন্দ্র কন্যা উষাকে বিয়ে করেন। এতক্ষণ যা শুনলেন, তা হয়তো আপনাদের আজগুবি গল্পের মতো মনে হচ্ছে, কিন্তু এটি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ মনুসংহিতা বা মনুস্মৃতি থেকে নেওয়া। 

হিন্দু ধর্মকে ছোট করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ধর্মীয় গুরুদের বিশ্লেষণ শুনলে বোঝা যাবে, যদি হিন্দুত্ববাদকে প্রতিহত করা না যায়, তাহলে আমাদের সামনে কতটা ভয়ঙ্কর অবস্থা অপেক্ষা করছে। রামায়ণ ও মহাভারতের সীতা ও দ্রৌপদী অজনী সন্তান, অর্থাৎ তারা কোন জনি ভেদ করে বের হয়নি। বিজ্ঞান কি বলে, সাইন্স কি বলে, অজনী সন্তান হতে পারে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। 

মনুসংহিতা নিয়ে আমার বিশদ জ্ঞান নেই, তবে সম্প্রতি চরমপন্থী মোদির মনুসংহিতার আলোকে মনুসংবিধান প্রণয়নের ঘোষণা দেয়ার পর, যতটুকু জ্ঞানার্জনের সুযোগ পেয়েছি, তাতে বোঝা যায় আমরা বর্বর মধ্যযুগীয় এক নির্যাতিত জনপদের বাসিন্দা। আর্য ধর্মটাকেই পরবর্তীকালে হিন্দু নাম দেয়া হয়েছে, যা শূদ্রদের দাস বানানোর উদ্দেশ্যে। মনুসংহিতা বা মনুস্মৃতি নাম শুনলেই বোঝা যায়, এটি মনু নামে একজন ঋষির স্মৃতি থেকে সংকলিত হয়েছে। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মনু হচ্ছেন একজন ঋষি, যার জন্ম হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব 2000 সালের আগের কোন এক সময়ে, এবং এই কারণে মনুসংহিতাকে হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের সবচেয়ে প্রাচীনতম একটি গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে দাবি করা হয় 12 টি অধ্যায় এবং 2683 টি শ্লোক নিয়ে গঠিত এই গ্রন্থে মূলত হিন্দুদের জীবন-বিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে কতিপয় নিয়ম নীতি আরোপ করা হয়েছে এবং সেই নিয়মনীতির প্রতিটি পদে পদেই রয়েছে পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য। ভগবান মনু মনুসংহিতায় লিখেছেন শূদ্ররা জন্মই নিয়েছেন ব্রাহ্মণদের দাসত্ব করবার জন্য। মনুসংহিতার প্রথম অধ্যায়ের 31 নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে প্রজাপতি অর্থাৎ প্রজাদের পতি বা ভগবান তার শরীর দ্বিখন্ডিত করে এক খন্ডে নারী আরেক খন্ডে পুরুষ তৈরি করেছেন। সে নারীর গর্ভে জন্ম নেয় এক পুরুষ সন্তান যার নাম বিরাট, আর বিরাটের ঔরসে জন্ম নেয় মনু। অতএব, জন্মসূত্রে মনু হলেন ভগবানের নাতি, অর্থাৎ ভগবানের বংশধর, সেই হিসেবে তিনি নিজেও নিজেকে ভগবান দাবি করেছেন। একমাত্র তার বংশধরী আর্য বা ব্রাহ্মণ জাতি ব্রাহ্মণরাই হচ্ছে মনুসংহিতার একমাত্র অনুসারী। 


মনুর বাণী সংবলিত গ্রন্থকেই মনুসংহিতা বলা হয়। একই গ্রন্থের 33 নম্বর শ্লোকে প্রজাপতির মুখ থেকে ব্রাহ্মণ, বাহু থেকে ক্ষত্রিয়, উরু থেকে বৈশ্য এবং পা থেকে নিম্ন শ্রেণী বা নমশূদ্রের জন্মের কথা বলা হয়েছে। এরা বলেছে পিতামহ ব্রহ্মা মুখ থেকে ব্রাহ্মণের জন্ম দিয়েছেন, ফলে তাদের মধ্যে শ্রেণীভেদ স্পষ্ট। মনুসংহিতা নয়, হিন্দু ধর্মের প্রায় সবকটি প্রধান ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী এই চারটি শ্রেণীর কথা বলা হয়েছে। গীতার ছত্রে ছত্রে রয়েছে ব্রাহ্মণের আধিপত্য, যেখানে ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যদের স্থান অপেক্ষাকৃত নিচু। ঋগবেদের দশম মন্ডলের 90 সুক্তে মোট 16 টি মন্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম মন্ত্রে বলা হয়েছে পুরুষের সহস্র চক্ষু, সহস্র চরণ, তিনি পৃথিবীকে সর্বত্র ব্যাপ্ত করে 10 অঙ্গুলি পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে অবস্থিত থাকেন। 12 নম্বর মন্ত্রে বলা হয়েছে এর মুখ।


হলো ব্রাহ্মণ দুবাহু রাজন্য হলো অর্থাৎ দুবাহু ক্ষত্রিয় হলো যা উরু ছিল তা বৈশ্য হলো এবং দু চরণ থেকে শূদ্র হলো অর্থাৎ পা থেকে শূদ্রের জন্ম হয়েছে। অথর্ববেদের সপ্তম শক্তি এক নম্বর মন্ত্রে বলা হয়েছে এ জগাত্মক পুরুষের ব্রাহ্মণ মুখরূপ অর্থাৎ ব্রাহ্মণ জাতি বিশিষ্ট পুরুষ এর মুখ থেকে উৎপন্ন হয়েছে। ক্ষত্রিয় জাতি যজ্ঞ পুরুষের বাহুদয় থেকে, বৈশ্য জাতি যজ্ঞ পুরুষের মধ্যভাগ থেকে এবং শূদ্র জাতি পদযুগল থেকে উৎপন্ন হয়েছে। যজুর্বেদের 31 অধ্যায়ের 11 নম্বর মন্ত্রে একইভাবে ব্রাহ্মণ প্রজাপতির মুখ থেকে, ক্ষত্রিয় বাহুদয় থেকে, বৈশ্য উরুদয় থেকে এবং শূদ্র পাদোদয় থেকে উৎপন্ন হয়েছে। সামবেদেও এই জাতিভেদের কথা বলা হয়েছে, যার ফলে ভারতের হিন্দুরা বর্তমানে প্রায় 650 ভাগে বিভক্ত। 

এছাড়াও, শিখ ও মতুয়াদের মতো কিছু স্বতন্ত্র ধর্মীয় জনগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে যারা নিজেদেরকে হিন্দু বলে পরিচয় দিতে নারাজ। বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমান ধর্মের মধ্যে মতুয়া ধর্মের অপকৌশল এবং ব্যবসা হিন্দু ধর্মের মধ্যে নেই। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ না রেখে, ভক্তি ও পূজার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে, মাঝে মাঝে ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে হিন্দু মহাসভা, বিজেপি এবং আরএসএসের মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো। মতুয়াদের উপর অত্যাচারের জন্য অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অত্যাচার না হয়। হিন্দুদের ব্রাহ্মণ্যবাদ মোদির হাত ধরে প্রথম ভারতবর্ষে প্রবেশ করেছে, যা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছে।



নয় ভারত উপমহাদেশকে হিন্দুত্ববাদের ছায়ায় আনবার এই স্বপ্ন অনেক পুরাতন। হিন্দুদের প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ মনুসংহিতার দোহাই দিয়ে ভারত উপমহাদেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর ধরে নমশূদ্রদের উপর চলেছে অবর্ণনীয় নির্যাতন। এ কারণে আরবের মুসলমানেরা ভারতে আসার পর তাদের পোশাক, ধর্মীয় রীতিনীতি এবং ইসলাম ধর্মের সাম্য ও সম্প্রীতির সৌন্দর্য দেখে নমশূদ্ররা ঝাঁকে ঝাঁকে মুসলিম ধর্মে আসতে শুরু করেছিল। মুসলমানেরা আরব থেকে ভারতে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এসেছিল, ধর্ম প্রচারের জন্য নয়। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তারা দেখেছিল মুসলমান হওয়া ভালো, কারণ মুসলমান হলে তারা বাদশার জাত, রাজার জাত হয়ে যায় এবং তাদের উপরে আক্রমণ হচ্ছে না। 


মুসলমান ব্রাহ্মণরা হয়নি, বরং আরব থেকে মুসলমানেরা যখন এদেশে এসেছিলেন, তখন তারা কাউকে জোর করে মুসলমান হতে বাধ্য করেনি। বরং তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান দেখে হিন্দুরা নিজেরাই মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। মুসলমানদের প্রায় একচ্ছত্র 1000 বছরের শাসন আমলে মনুসংহিতার শাসন বন্ধ হয়ে যায় এবং মুসলিম শাসন শুরু হলে দীর্ঘদিন ব্রাহ্মণদের ধর্ম ব্যবসা বন্ধ ছিল। 

মুসলিম শাসনের অবসান ঘটলে ব্রিটিশ আমলে মনুসংহিতার অনুসারী ব্রাহ্মণরা আবারো হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা শুরু করে, যার ফলে নমশূদ্র হিন্দুদের উপর আবারো শুরু হয় অবর্ণনীয় নির্যাতন। হিন্দু ব্রাহ্মণদের শ্রেণী বৈষম্য এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিল যে শূদ্রদের বাঁচাতে ইংরেজদেরকে শেষ পর্যন্ত বেশ কিছু কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হয়েছিল। এর মধ্যে দাসপ্রথা, নরবলী প্রথা এবং নববধু শুদ্ধিকরণের মত মধ্যযুগীয় প্রথা বাতিল করতে রীতিমত ব্রাহ্মণদের বিরুদ্ধে ইংরেজদেরকে যুদ্ধ করতে হয়েছিল।

হয়েছিল এ আইনগুলোর দুই একটি নিয়ে কিঞ্চিত আলোচনা করলেই বোঝা যাবে কতটা ভয়ঙ্কর নির্যাতন চলেছে নিচু বর্ণের হিন্দুদের উপর। 1831 সালে নরবলি প্রথা বাতিল করা হয়, যেখানে ব্রাহ্মণদের দাবি ছিল যে কোনো এলাকায় পোকামাকড় কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষেতের ফসল যদি নষ্ট হতে থাকে, তাহলে ওই এলাকার শূদ্রদের মধ্য থেকে একজন পুরুষকে বলি দিতে হবে। এছাড়া নমশূদ্রদের ঘরে যদি প্রথম পুত্র সন্তান জন্ম নিত, তাহলে তাকে বলি দিতে হতো। মূলত ব্রাহ্মণদের এই চালাকির উদ্দেশ্য ছিল নমশূদ্রদের ঘরে যেন পুরুষের সংখ্যা বাড়তে না পারে, কারণ ব্রাহ্মণদের চেয়ে যদি শূদ্রদের পুরুষের সংখ্যা বেশি হয়ে যায়, তাহলে হয়তো তারা বিদ্রোহ করে বসতে পারে। তাদের এই চালাকিকে বুঝতে পেরে ইংরেজরা আইন করে এই ভয়ঙ্কর প্রথা বন্ধ করে।


1819 সালের আগ পর্যন্ত হিন্দু সমাজে একটি ভয়াবহ প্রথার প্রচলন ছিল, যেখানে নমশূদ্ররা বিয়ে করলে তাদের স্ত্রীদের প্রথম কয়েক রাত ব্রাহ্মণ ঠাকুরদের কাছে রেখে আসতে হতো। ব্রাহ্মণদের দাবি ছিল নমশূদ্র ঘরের মেয়েদের বিষমুক্ত করার জন্য প্রথমে তাদের ঠাকুরদের কাছে থাকতে হবে। বিষমুক্ত হওয়ার পর ঠাকুর চাইলে তাদেরকে নমশূদ্রদের ঘরে ফেরত পাঠানো হতো। 1819 সালে ব্রিটিশ শাসক আইন অধিনিয়ন সাত দ্বারা নববোধ শুদ্ধিকরণ প্রথা বাতিল করা হয়। তবে ব্রিটিশরা আইন করে এই প্রথা বন্ধ করলেও হিন্দু ব্রাহ্মণরা তাদের এই আইনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করে। 

এর মধ্যে পাঞ্জাবের লালা লাজপত্র রায়, মহারাষ্ট্রের বাল গঙ্গাধর তিলক এবং বাংলার বিপিনচন্দ্র পাল এই তিন কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতার নেতৃত্বে শুরু হয় চরমপন্থী লাল বাল পাল আন্দোলন। এছাড়া কট্টরপন্থী এসব হিন্দু নেতাদের নেতৃত্বে ভারতে গণেশ উৎসব, গোরক্ষা সমিতি, শিবাজি উৎসবের মত ধর্মবিদ্দেশী কার্যক্রম শুরু হয়। 1880 সাল থেকে 1890 সাল পর্যন্ত 10 বছরে গোরক্ষা আন্দোলনের নামে ভারতে অন্তত দেড় লাখ মুসলমানকে হত্যা করা হয়। এসব আন্দোলনের মাধ্যমে শুধু যে পুরাতন প্রথাগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল, তা নয়, বরং নতুন করে ধর্মীয় বিভাজন ও সহিংসতার সূচনা হয়।



কুসংস্কারকে ফেরত আনতে চেয়েছিল ব্রাহ্মণরা ভয়ঙ্কর আরেকটি আন্দোলন শুরু করেছিল যার নাম শুদ্ধি আন্দোলন, যা 1892 সালে শুরু হয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলমান ও শিখদেরকে আবারো হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়, বিশেষ করে মুসলমানদের উপর শুরু হয় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ। লালবাল পালদের গণেশ উৎসব, শিবাজি উৎসব এবং গোরক্ষা আন্দোলন আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে, এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো যেমন বিজেপি ও আরএসএস শুদ্ধি আন্দোলনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা দাবি করছে যে রাম রাজত্বে শুধুমাত্র রাম ভক্তরাই থাকবে এবং অন্য ধর্মের মানুষদেরকে আবারো হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে হবে।


এই আন্দোলনগুলোর ফলে হিন্দুরা কতটা হিংস্র রূপ ধারণ করতে পারে, তা ভারতের মুসলমানেরা দেখতে শুরু করেছে। গুজরাট এবং উত্তরপ্রদেশে মুসলমানদের বসবাস এখন কঠিন হয়ে পড়েছে, এবং সরকার তাদের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছর ধরে মুসলমানরা দমবন্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না, রুটি রুজির অভাব দেখা দিয়েছে। পাঁচ বছর আগে মুসলমানদের জীবন শান্তিপূর্ণ ছিল, বিয়ে-শাদী ঠিকমত হচ্ছিল, কিন্তু এখন সবকিছু বদলে গেছে। হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সম্পর্ক একেবারে তলানিতে পৌঁছেছে।


গোহত্যা বন্ধের নামে মুসলমানদের উপর চলা নির্যাতন সহ্যের সীমা পার করেছে, যার কারণে ভারতের অনেক হিন্দু মুসলমান হত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শুরু করেছে। ভারতের অর্ধেক মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাস মানে না, বিশেষ করে শিক্ষিত জনগণের মধ্যে প্রায় শতভাগ মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বেরিয়ে এসেছে।




হোক গোবর ভরা এসবের পরেও বিশাল ভৌগোলিক এক জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশকে মুসলমানদের উপর ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি ও আরএসএস এর ধর্মান্ধ রাজনীতিবিদরা। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে গোমূত্র খাওয়ার মাধ্যমে করোনা ঠেকানোর দাবি উঠেছে, যা হিন্দু মহাসভার উদ্যোগে গোমূত্র পার্টির আয়োজনের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। কর্নাটক বিধানসভায় গরু জবাই বিরোধী প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর 2020 সালে গরু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

ভারতের গৌমাতার সন্তানেরা এখন বাংলাদেশেও সংক্রামিত হতে শুরু করেছে, যেখানে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও আদালতে গরুর মাংস রান্না বন্ধ করা হয়েছে। পিলখানা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কুরবানির পশু জবাই করতে দেয়া হয়নি, যা ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার অংশ। তারা এই পবিত্র ভূমিকে দখল করার জন্য নানা চেষ্টা করছে, যেখানে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছে। 


এত আলোচনার পর প্রশ্ন উঠতে পারে, ভারতের হিন্দুরা আসলে কি চায়। তাদের দেশের ব্যাপার হলেও, অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখা ভারতীয় গোমূত্র বাহিনীর সমর্থকেরা বাংলাদেশে বসেও সেই স্বপ্ন দেখছে। গোবরের বিস্কুট বা গোবর দিয়ে পেঁয়াজ বানানো নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু তাদের ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন এবং অখন্ড ভারতের স্বপ্নের বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।



বাংলা ভূমি একটি পবিত্র স্থান, যা অখন্ড ভারতের অংশ হতে পারে, এই প্রার্থনা করে জনগণ। বিজেপি সরকারের মাধ্যমে এই প্রার্থনা পূরণের আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। মোনাজাতে নেতৃত্বদানকারী গোবিন্দ প্রামাণিক, যিনি একজন নিম্নবর্ণের হিন্দু, অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি ব্রাহ্মণের বাড়ির ঠাকুরের সামনে পুজো দিতে পারবেন? যদি না পারেন, তাহলে অখন্ড ভারতের ধারণা কতটা বাস্তব? 


এদিকে, পাঞ্জাবের খালিস্তানি নেতা অমৃতপাল সিং নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, যা ভারতকে খণ্ড খণ্ড বিভক্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। খালিস্তানি আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি করছে, যা বাংলাদেশে বসবাসকারী অখন্ড ভারতের স্বপ্নদর্শীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। 

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলা হচ্ছে, হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান সকলেই এই দেশের স্বাধীনতার জন্য একত্রিত হয়েছিল। তাই বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিয়ে বসবাসের দাবি করা হচ্ছে, যাতে দেশের শান্তি ও ঐক্য বজায় থাকে।

Comments