পতিতাবৃত্তি ছিলো রবীন্দ্রনাথদের পারিবারিক ব্যবসা
ভারত একটি ধর্মান্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে মুসলিম বিদ্বেষী কট্টর হিন্দু সংগঠনগুলোর উত্থান ঘটেছে। এই ধর্মান্ধতার ইতিহাস ভারত রাষ্ট্রের জন্মের আগে থেকেই শুরু হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপর নির্যাতন চলেছে। গৌরক্ষা সমিতি, আরএসএস এবং হিন্দু মহাসভার মতো সংগঠনগুলো মুসলমানদের নিধনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান বিজেপি সরকারের অধীনে মুসলমানদের জন্য ভারতে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মুসলিম বিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যদিও তাকে অনেকেই বন্ধু হিসেবে মনে করেন। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক প্রতিভা undeniable, কিন্তু তার সাহিত্য চুরির অভিযোগও রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথের এই দ্বিমুখী চরিত্রের পেছনে কি কারণ ছিল? তার পারিবারিক ব্যবসা পতিতাবৃত্তি ছিল কি না, এবং কিভাবে এই ব্যবসা তার সাহিত্য ও চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করেছে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। রবীন্দ্রনাথের পরিবারে পতিতাবৃত্তির ইতিহাস ছিল, যা তার লেখালেখিতে প্রতিফলিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা জরুরি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখালেখির সাথে তার পারিবারিক ইতিহাসের সম্পর্ক গভীর। তাকে একটি সাম্প্রদায়িক হিন্দু কবি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, কিছু গবেষক রবীন্দ্রনাথকে মুসলিম বিদ্বেষী এবং বর্ণবাদী লেখক বলেও চিহ্নিত করেছেন। বিষয়টি আরও জটিল যখন দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুরের সাথে ইংরেজ সাহেবদের সম্পর্ক স্রেফ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিষ্ঠা নয়, বরং নারীদের সংযুক্তকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নও ছিল। ইংরেজ চাকরিগুলো যারা ব্যাচেলর ছিলেন, তাদের মনোরঞ্জন করতে ঠাকুর পরিবারের নারীদের দিয়েও পরিচিত ছিলেন দ্বারকানাথ, যা রবীন্দ্রনাথের পরিবারে পতিতাবৃত্তির ব্যবসার আগমন ঘটায়।
অমর্ত্য সেন তার বইয়ে রবীন্দ্রনাথের জন্ম পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন রবীন্দ্রনাথের শারীরিক গঠন সাধারণ ভারতীয়দের থেকে পৃথক এবং ঠাকুরবাড়ির নারীদের সাথে ইংরেজদের অবাধ মেলামেশা ছিল। এ কারণে, তিনি রবীন্দ্রনাথের ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন। প্রচারের অঙ্গীকারে, রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠা করা কলকাতার সোনাগাজে যৌনপল্লীটি আজও আলোচনার বিষয়বস্তু। এটি নির্দেশ করে যে, রবীন্দ্রনাথের পরিবার যে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে ছিল, তা তার সাহিত্য ও চিন্তাভাবনার প্রভাবিত করেছে।
কলকাতায় দ্বারকানাথ ঠাকুরের সময়ে কমপক্ষে ৪৩টি যৌনপল্লী থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যা রবীন্দ্রনাথের জীবনকাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। গোলাম আহমদ মর্তুজা রচিত একটি ইতিহাস গ্রন্থের তারকানাত অধ্যায়ে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার ১৪০৬ সালের ২৮শে কার্তিক সংখ্যায়ও এই বিষয়টিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদিও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় নৈতিক অবক্ষয় সংকট অনুভব করা যায়, তথাপি তার লেখায় অশ্লীলতা ও যৌনবিষয়ক উপাদানের ব্যবহারের কারণে তিনি বিভিন্নভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।
সেসময়ে সিফিলিস একটি সাধারণ রোগ হিসেবে দেখা যেত, এবং ১৯২৮ সালে অবতার পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের সিফিলিস রোগের খবর গুরুত্ব পায়নি। রবীন্দ্রনাথের লেখায় যৌনতা ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় উল্লেখ পাওয়া গেছে, যেমন তার বিখ্যাত "দুই বিঘা" কবিতায় প্রকাশিত চিত্র। পতিতা ব্যবসা ঠাকুর পরিবারের প্রধান ব্যবসায় পরিণত হয়েছিল। পাশাপাশি, পতিতালয় এবং ক্ষুদ্রদের চাহিদার কারণে মদ ও আফিমের ব্যবসাও প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ঠাকুরবাড়িতে মদ ও আফিম এতটাই উপলব্ধ ছিল যে, রবীন্দ্রনাথের আত্মীয় কাদম্বরী দেবী অতিরিক্ত আফিম খেয়ে আত্মহত্যা করেন। কাদম্বরী রবীন্দ্রনাথের বিয়ে মেনে নিতে পারেননি, যার ফলস্বরূপ মাত্র চার মাসের মাথায় তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মদ, আফিম এবং পতিতা ব্যবসার উপার্জনে ঠাকুর পরিবারের জীবনযাত্রা অব্যাহত ছিল, যা তাদের পারিবারিক চিন্তাভাবনা এবং সাহিত্যকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছিল।
পরবর্তী সময়ে দারকানাথ ঠাকুর বিদেশী বাবুদের মনোরঞ্জনের বিনিময়ে অর্জিত অর্থে জমিদারি কিনতে শুরু করেন, যা ঠাকুর পরিবারের জন্য একটি নতুন ব্যবসার উন্মোচনা করে। এই চর্চার মাধ্যমে ফুলে পেঁপে ঠাকুর পরিবার জমিদার বংশধর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। যদিও তাদের যে অর্থের উৎস ছিল তা ছিল সম্পূর্ণ অশালীন এবং অবৈধ উপায়ে উপার্জিত, সেই অর্থে জমিদারি লাভের পর ঠাকুর পরিবার প্রজাদের উপর অত্যাচার চালাতে পিছপা হননি। শিলাইদহের সচেন্দ্র অধিকারী বই অনুসারে, পূর্বপুরুষের মতো রবীন্দ্রনাথ নিজেও একজন নিষ্ঠুর জমিদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে অন্যান্য জমিদার যেখানে একটি বার খাজনা নিতেন, সেখানে রবীন্দ্রনাথ ১৮৯৪ সালে ঘোষণা করেন প্রজাদেরকে বছরে দুটি খাজনা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, কালীপূজায় প্রজাদেরকে বাধ্যতামূলক খাজনা দিতে বলা হত, যদিও তার জমিদারি অঞ্চলের নিয়োগকৃত বেশিরভাগ প্রজা মুসলমান ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে মুসলমানদের ধর্মকে অবমূল্যায়ন করে বহু গল্প, কবিতা ও উপন্যাস রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ।
শুধুমাত্র মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ প্রদর্শন করতে গিয়ে তার পুরানো কাবলিওয়ালা গল্পে মুসলমানদের জারজ, চোর এবং খুনি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে দুরাশা গল্পে এক মুসলিম নারীর বিকৃত চিত্রায়ণ দেখানো হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তার লেখায় হিন্দু ধর্ম এবং ব্রাহ্মণদের প্রতি মুসলিম নারীর আকর্ষণ তুলে ধরেন। তার বিখ্যাত প্রবন্ধ "বীরগুরু"তে তিনি ধর্মমতের প্রবর্তকদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে মুসলমানদের কালেমাকে ঠাট্টা করে উপস্থাপন করেছেন। মুসলিম বিদ্বেষ সরিয়ে নিতে গিয়ে তিনি জবনদের মুখের আল্লা আকবার ধ্বনির বিপরীতে আর্য যোদ্ধাদের মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উল্লেখ করেছেন, যা তার লেখায় ধর্মীয় বিদ্বেষের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
শব্দের অর্থে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে হিন্দুরাই ভারতের আর্য জাতি। নাটকের একটি উক্তিতে বলা হয়েছে, খুন করা যেখানে ধর্ম, সেখানে তা না করাটা পাপ। রবীন্দ্রনাথের লেখার মধ্যে মুসলমানদেরকে দুষণ করা হয়েছে এবং তাদের হত্যাকে ন্যায়সঙ্গত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কবির মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ চালানো, এবং তিনি শাহবাগীদের পছন্দের অসাম্প্রদায়িক কবি হিসেবে সেই লক্ষ্যগুলো স্পষ্ট করেছেন। রবীন্দ্রনাথের অসাম্প্রদায়িকতার নমুনা হিসাবে তিনি ব্রাহ্ম ধর্মকেই পৃথিবীর একমাত্র ধর্ম হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের সমকালীন লেখকরা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ এই অভিযোগের উপর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, মুসলমান বিদ্বেষকারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় সাহিত্য বিসর্জন দিতে তিনি প্রস্তুত নন। তিনি অভিযোগ করেন যে মুসলমানদের নিজেদের সাহিত্য সৃষ্টি উচিত। শান্তিনিকেতনে একবার মরুম মোতাহার হোসেন চৌধুরী রবীন্দ্রনাথকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ইসলাম ও বিশ্বনবী সম্পর্কে তার লেখাতেও কিছু নেই কেন। উত্তরে কবি বলেছিলেন, তিনি কোরআন পড়তে শুরু করেছিলেন কিন্তু সে সম্পর্কে গভীরভাবে যেতে পারেননি, এবং তার পূর্ণ সাহিত্যজীবনের কোথাও হিন্দু বা ব্রাহ্ম ধর্ম ছাড়া অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোন লেখা নেই।
অনেকে বলেন যে রবীন্দ্রনাথ ব্রিটিশদের বিরোধিতা করেছিলেন, তবে বাস্তবে তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের এক পদলেহনকারী বুদ্ধিজীবী। তিনি তার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সময়ও ব্রিটিশ রানীর সমর্থকের ভূমিকায় ছিলেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মুসলমানদের তৎপরতা দেখিয়ে তাকে মুসলমানদের সমালোচনা করতে দেখা গেছে। রবীন্দ্রনাথ তার কণ্ঠরোধ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, কিছুদিন আগে একদল অবিবেচক শ্রেণী সমালোচনা করেছে।
মুসলমানরা কলকাতা রাজপথে ইংরেজদের বিরুদ্ধে উপদ্রবের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল, যা রবীন্দ্রনাথের কাছে বিস্ময়ের বিষয় ছিল। তিনি বলেছিলেন, মুসলমানদের কাছে মোড়গণ কথাটির একটি তাত্পর্য রয়েছে, যেখানে তারা শক্তিশালী কিছু খেয়ে থাকলেও যে উপদ্রবে তারা লিপ্ত ছিল, তা আসলে ইংরেজদের প্রতি তাদের ক্ষোভেই উদ্ভূত হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য প্রতিভার মধ্যে অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে তিনি অন্যের লেখা চুরি করার কাজে সময় ব্যয় করেছেন। 1913 সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পেছনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা উঠে আসে। গীতাঞ্জলির জন্য তাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি, বরং ‘সং অফারিংস’ নামে ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এই সম্মান লাভ করেন।
মূল বাংলা গীতাঞ্জলি 1910 সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং একে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে ১৯১২ সালের ইংরেজি অনুবাদ। কিন্তু এই অনুবাদের অনেকটি কাজ সিএফ এন্ড্রোসের দ্বারা করা হয়েছিল, যা রবীন্দ্রনাথ স্বীকার করেননি এবং এন্ড্রোজের নাম বদলে ‘দ্বীনবন্ধু’ উল্লেখ করেছেন। এই অনুবাদ তৈরিতে কপিরাইট নীতি লঙ্ঘন ছিল এবং তা বাইবেলসহ খ্রিস্টান ধর্মীয় গবেষকদের লেখারও মহাচুরি সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথের নামেই চিহ্নিত হয়েছে। যদিও রবীন্দ্রনাথকে সমালোচনা করা হয়, তার সাহিত্যিক প্রতিভার প্রতি ক্রমাগত আস্থা রয়েছে।
বিশ্বের কপিবাজ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে, যেখানে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ 'সং অফারিংস' সম্পর্কে ইংরেজ কবি ইয়েস প্রশংসা করলেও এর শৈলী এবং বিষয়বস্তুতে এর উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গীতাঞ্জলির ২৬ নম্বর কবিতা এবং বাইবেলের সং অফ সলোমনের শ্লোকের মধ্যে বিস্তর সাদৃশ্য রয়েছে, যা রবীন্দ্রনাথের ধারাবাহিক নকলের অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করে। এছাড়া, সেন্ট ফ্রান্সিসের লেখা ধর্মীয় গান এবং রবীন্দ্রনাথের কবিতার মধ্যে অনুরূপতা লক্ষ্য করা গেছে।
রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ‘উর্বশী’ কবিতাটিও অন্য কবির লেখা থেকে নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে চার্লস সুইনবার্নের 'অ্যাটালেন্টাইন ক্যালিটন' কবিতার নিম্নাংশের সঙ্গে বিনিময় করে। তার সৃষ্টি 'চিত্রা' ও 'মানসিক' কাব্যের বিষয়বস্তু এবং কাঠামোর সাদৃশ্যতা অন্যান্য ইংরেজ কবিদের কাজের সাথে উল্লেখযোগ্য মিল পায়। বিশিষ্ট গবেষকরা যেমন প্রিয় রঞ্জন সেন এবং নারায়ণ বিশ্বাস, তারা একমত হয়েছেন যে রবীন্দ্রনাথের অনেক কাব্য ইংরেজি সাহিত্য থেকে ধার নেয়া হয়েছে।
এছাড়া, রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন মুসলিম কবি যেমন মির্জা গালিব, শেখ সাদি এবং ওমর খাইয়ামের কাজের থেকেও অনেক ধারণা ধার করেছেন। বিশেষ করে তার 'ভারত তীর্থ' কবিতাটি প্রসিদ্ধ পার্সিয়ান কবি আল্লামা জালালউদ্দিন রুমির কবিতার আদলে রচিত বলে জানা গেছে। এমনকি তার পরিচিত বন্ধুদের রচনা থেকেও লেখার ক্ষেত্রে তিনি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, যার ফলে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির ঐতিহ্যগত বিশালতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিশীলতায় গগনচন্দ্র দাস, المعروف গগন হরকরা, এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি ডাকবাবুর পাশাপাশি গীতিকার, সুরকার এবং জনপ্রিয় লোকশিল্পী ছিলেন, এবং রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সংগীত করতেন। গগন হরকরা থেকে নেওয়া সুরেই রবীন্দ্রনাথ 'তোমায় ভালোবাসি' এবং 'আমার সোনার বাংলা' গানগুলো রচনা করেন, যা পরে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হয়ে ওঠে। যদিও রবীন্দ্রনাথের গানে বিশালতা রয়েছে, গগন হরকরা দ্বারা প্রভাবিত হওয়া স্পষ্ট।
বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীতের রচয়িতারূপে রবীন্দ্রনাথের সুবিধাবাদ ও দ্বৈততা প্রকট ভাবে প্রকাশ পায়। তিনি ভারতের জাতীয় সংগীত 'জনগণমন অধিনায়ক' রচনায়ও নির্মাণশৈলীগত স্পষ্টতা রেখেছেন, যেখানে ১৯১০ সালের ৬ই মে ভারত সম্রাট পঞ্চম জর্জের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে লাইন রাখা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের কবিতার মাঝে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বক্তব্য লুকিয়ে ছিল, যেখানে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মের মিলনের ওপর।
এছাড়া, রবীন্দ্রনাথের লেখায় সিংহাসন ও ভারতীয় জাতির প্রেমের চিত্রায়ণের মধ্য দিয়ে পঞ্চম জর্জের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পায়, যা তার গানের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হতে পারে। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিশাল, যা তার সাহিত্যিক কৃতিত্বের পাশাপাশি তার সময়ে রাজনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জনগণমন অধিনায়ক' গান পঞ্চম জর্জকে ভারতের ভাগ্য বিধাতা উপাধি দেওয়ার মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা তিন বছর পর তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করে। একইভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' তৈরির পেছনে কপিরাইটের প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে হিন্দুদের দেবীকে নিয়ে লেখা বন্দনায় অন্যজনের সুর সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে। অনেকের মতে, এসব অনুকরণের কারণে গানের প্রকৃত মৌলিকতা গোপন রাখা হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের দাবির পাশাপাশি, পূর্ব বাংলার মুসলমানদের প্রতি তার অবিচলিত বিরোধিতা একজন সুশিক্ষিত মুসলমানের উন্নয়নসমগ্রের বিরোধী হিসেবে গণ্য হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তার সমসাময়িক উচ্চবর্ণ হিন্দু বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে বিরোধিতার বিষয়টি আলোচিত হয়। সেই সময়ের উদার পন্থী মেধাবী ব্যক্তিরা, যেমন আশুতোষ মুখার্জী ও সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, রবীন্দ্রনাথের উল্টো দিকে অবস্থান নেন।
বর্তমানে মোদি সরকার রবীন্দ্রনাথের ইমেজ রক্ষায় সক্রিয়, এবং বাংলাদেশে কিছু বুদ্ধিজীবী রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেননি, অথচ তার সমসাময়িক বুদ্ধিজীবীরা তাকে বিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন, যা রবীন্দ্রনাথের বৈচিত্র্যময়তা এবং রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে নতুন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডক্টর নীরোধ পরন হালরা 1912 সালের 28 মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিরাট সমাবেশের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা নিয়ে আলোচনা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই সভার সভাপতিত্ব করেন এবং সেখানে সকল হিন্দু নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে নীরচন্দ্র চৌধুরীও আপত্তি জানান, এবং উল্লেখ করেন যে ওই সভায় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ছিলেন।
ডক্টর রমেশ চন্দ্র মজুমদার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আশুতোষ মুখার্জী এবং ভাইসর লর্ড হার্ডিন্সের সাথে তোলা সার্কলিপির কথা তুলে ধরেন, যেখানে 18 বার চাপ সৃষ্টি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করা হয়। হিন্দু নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিদ্রুপ করে 'মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়' বলতেন। ভারতের ইতিহাসবিদ শ্রী সুকীর্তি রঞ্জন বিশ্বাসও রবীন্দ্রনাথকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোর বিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেন।
তথ্য বলছে যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরোধিতা সত্ত্বেও আজকের বাংলাদেশে তাকে একটি প্রিয় পাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চলছে। তার লেখা গল্প ও প্রবন্ধ বর্তমানে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে, যেখানে তিনি জীবনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিলেন। এই দ্বন্দ্ব রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করছে।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে এর আগে ১৯১৫ সালে নবাব স্যার সালিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কয়েকশো বিঘা জমি দান করে গিয়েছিলেন, যার জন্য তাকে ভুলতে বসেছে বর্তমান প্রজন্ম। স্যার সালিমুল্লাহ ছাড়াও ধনবাড়ির নবাব সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, ভাইসরয় লর্ড হার্ডিন্স এবং লর্ড লিটনসহ যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন, তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না।
এদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে গণমাধ্যমে শোকের মাতম শুরু হয়, এবং পুরো বছর তাকে স্মরণ করা হয়। যদিও রবীন্দ্রনাথ মানবতার উন্নয়ন ও সাম্যবাদের কথা ভেবেছিলেন, তার বিবর্তিত ভাবমূর্তির কারণে সহভাগী বুদ্ধিজীবীরা তাকে বিভিন্ন তত্ত্বে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে চলেছেন।
এর সাথে সাথে রবীন্দ্রনাথের কবিতায় পূর্ব বাংলার সাত কোটি মানুষের প্রতি আহ্বান দেখা যায়, যেখানে তিনি বলেন "সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী ডেকেছো বাঙালি করে মানুষ বরণী", যা তার মানবিক মৌলিকতাকে ফুটিয়ে তোলে। এসব অবস্থানের মধ্যেও রবীন্দ্রনাথের লেখা ক্ৰমাগতভাবে বিশেষণ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হতে থাকে, যা তার চরিত্রের জটিলতা তুলে ধরে।

Comments
Post a Comment