মাসিক-বীর্যপাত,কনডম এসব কি শেখানো হচ্ছে শ্রেণীকক্ষে? #eliashossain #15minutes #education #bangladesh
Bangladesh Turns to Pakistani Onions and Sugar, Boycotting Indian Imports । ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বয়কট করে এবার পাকিস্তানি পেঁয়াজ ও চিনিতে ভরছে বাংলাদেশ
Chapter 01
লেখাটিতে সেক্স এডুকেশনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে এটি নাগরিক তৈরির ক্ষেত্রে অপরিহার্য। লেখক মনে করেন, সঠিক শিক্ষা না পেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে অশালীন দৃশ্য দেখার প্রবণতা বাড়ছে এবং এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে তারা বিপথে যেতে পারে। সেক্স এডুকেশন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। লেখক উল্লেখ করেন যে, শিক্ষকের সামনে খোলামেলা আলোচনা করা হচ্ছে, যা সমাজের জন্য অশোভন। তারা আধুনিক শিক্ষার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, কিন্তু সেই সঙ্গে কিছু অশিক্ষার কুশিক্ষা তাদের মগজে ঢুকছে। পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে ধর্মীয় গ্রন্থের বিরোধী কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ক্লাসের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা এবং মূল্যবোধের অভাব লক্ষ্য করা যায়।
Chapter 02
লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ষষ্ঠ শ্রেণীর পাঠ্যবই থেকে মহানবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী বাদ দেওয়া হয়েছে এবং লাল গরু নামক একটি গল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের গরুকে মায়ের মতো দেখানো হয়েছে এবং গরু জবাই করা ঠিক নয় বলে শেখানো হচ্ছে। সপ্তম শ্রেণীর বইয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লালু গল্পের মাধ্যমে হিন্দুদের কালীপূজা ও পাঠ বলির বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ রামায়ণের সংক্ষিপ্ত রূপ দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। লেখক অভিযোগ করেন যে, জিপিএ পাঁচের শিক্ষার্থীদের অনেকেই জিপিএর পূর্ণাঙ্গ রূপ জানে না এবং বাংলাদেশের সম্পর্কে তাদের ধারণা অত্যন্ত কম।
শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি কালো থাওয়া বসানো হয়েছে, যা জাতিকে মেধাশূন্য করার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজ করছে। লেখক উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, এই পরিস্থিতি শিশু থেকে স্নাতক শ্রেণী পর্যন্ত ধাপে ধাপে চলছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা বিপজ্জনক। শারীরিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি শেখানোর কথা বলা হলেও, লেখক মনে করেন যে, শিক্ষার্থীদের মাথায় কিছুই নেই এবং তাদের ইসলাম শেখানোর জন্য নাটকীয় অভিনয়ের মাধ্যমে প্রচার করতে হবে।
এই পরিস্থিতি রাতারাতি তৈরি হয়নি, বরং ভারতের প্রায় 80 বছরের পুরাতন মুসলিম বিরোধী পরিকল্পনার সাথে আওয়ামী লীগের 15 বছরের ক্ষমতার সময়কাল মিলে একটি ভয়ঙ্কর বিবর্তন ঘটেছে। লেখক উল্লেখ করেন যে, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে তাদের অশিক্ষিত করতে হয়, যা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘটছে।
Chapter 03
লেখক উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে আমরা শুধু অশিক্ষিত নই, বরং অশিক্ষার কুশিক্ষাও আমাদের মগজে প্রবেশ করেছে। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের ভূমিকা এখন বন্ধুর মতো হয়ে গেছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে বিপর্যস্ত করছে। শিক্ষকের প্রতি সম্মান ও স্নেহের সম্পর্কও দূষিত হয়ে গেছে, ফলে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কগুলো সহনীয় হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উধাও হয়ে গেছেন এবং ২২ বছরের কলেজ ছাত্রের সাথে ৪০ বছর বয়সী শিক্ষিকার সম্পর্ক এখন আর অস্বাভাবিক মনে হয় না।
লেখক চুয়াডাঙ্গার এক স্কুল ছাত্রের ঘটনার উল্লেখ করে বলেন যে, এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার ফল। শিক্ষার্থীরা তখনই শিক্ষকদের সম্মান করবে যখন তাদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ থাকবে, কিন্তু বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সেই নৈতিকতার উপর আঘাত করা হয়েছে। লেখক বিশ্বাস করেন যে, আমরা আদমের সন্তান এবং বানর থেকে মানুষ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বর্তমান সরকারের সময়ে পাঠ্যপুস্তকে একটি বিশেষ ধর্মের অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং মুসলমান নামধারী কিছু ইসলাম বিদ্বেষী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, যা মুসলমানদের ঈমানে আঘাত করছে। লেখক এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং শিক্ষার এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য আহ্বান করেন।
Chapter 04
লেখক বলেন, আজকাল স্কুল ও কলেজের ছাত্রদের মধ্যে বাদরের অভাব নেই এবং দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠেও এই সমস্যা প্রকট। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন বাদর তৈরির এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে যৌন বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা শিশুদের মাথায় যৌন চিন্তা ঢুকিয়ে দিচ্ছে। লেখক উল্লেখ করেন যে, মাসিক হলে কী ব্যবহার করতে হয়, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, যা ছাত্রদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, আগে তিনি এসব বিষয় নিয়ে সংকোচে ভুগতেন, কিন্তু এখন তিনি এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন। লেখক প্রশ্ন করেন, কেন ইংরেজি, অঙ্ক ও বিজ্ঞানকে ঐচ্ছিক রেখে রান্নাবাড়ার যৌন আলোচনাকে আবশ্যিক করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি ও সমাজবিজ্ঞানই মূল বিষয় হওয়া উচিত, এবং অন্যান্য বিষয়গুলো অপশনাল হওয়া উচিত।
লেখক তার মেয়ের জন্য এই কারিকুলাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন এবং রান্নাবাড়ার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, নাচের মতো অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা জাতির জন্য ক্ষতিকর। লেখক প্রশ্ন করেন, কেন জাতিকে ধ্বংসের পরিকল্পনা চলছে এবং এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
Chapter 05
লেখক বলেন, শিক্ষার ধ্বংসের পেছনে একটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র কাজ করছে, যা কিডনির সমস্যার মতো। জ্বরের ওষুধ খেয়ে সাময়িকভাবে জ্বর কমানো সম্ভব, কিন্তু কিডনির রোগ সারাতে হলে সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন। একইভাবে, শিক্ষার আসল অসুখ চিহ্নিত না করলে তা কখনোই সারবে না। লেখক 1971 সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের দিকে ফিরে যান এবং বলেন, সেই সময়ে পাকিস্তানি সেনারা যখন ক্লান্ত ছিল, তখন দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল।
তিনি প্রশ্ন করেন, কেন মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তান সরকারের সুবিধা নিয়েছিল, তাদের হত্যা করা হবে? লেখক দাবি করেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাত রয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে। 14ই ডিসেম্বর নিহত বুদ্ধিজীবীদের তালিকা দেখলে বোঝা যাবে, তারা আসলে রাজাকার ছিলেন। লেখক তার বাবার শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সারসহ সকল বুদ্ধিজীবী শহীদের স্মরণ করেন এবং বলেন, যদি তারা বেঁচে থাকতেন, তাহলে শেখ হাসিনার হাত আরও শক্তিশালী হতো।
লেখক মনে করেন, এই বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মাধ্যমে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জাতির মেধা ও চিন্তাভাবনাকে ধ্বংস করা হয়েছে, যা আজকের শিক্ষার পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
Chapter 06
লেখক মনির চৌধুরীর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং শহীদুল্লাহ কায়সারের জীবনযাত্রার কথা উল্লেখ করেন, যিনি মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে ছিলেন। সিরাজুল হক খান, ডাক্তার মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি, ডাক্তার আজহারুল হক এবং আলতাফ মাহমুদ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি, অথচ তাদের সন্তানরা নিজেদের বাবাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেন। ডাক্তার আলিম চৌধুরীর মেয়ে ডাক্তার নুজা চৌধুরী বাবার জন্য বিলাপ করেন, কিন্তু লেখক প্রশ্ন করেন, কিভাবে আলিম চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ বুদ্ধিজীবী হলেন, যখন তিনি পাকিস্তানি সেনাদের চিকিৎসা করতেন।
লেখক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীদের মধ্যে যারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন, তাদের মধ্যে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করেছেন। শাহরিয়ার কোভিদ, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের মুরগি সরবরাহ করতেন, আজ স্বাধীনতার পক্ষের কথা বলেন। লেখক কাদের সিদ্দিকীর মতো ব্যক্তিদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। শাহাদাত চৌধুরীর ভগ্নিপতি মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে ছিলেন, অথচ তার জীবন রক্ষা হয়েছিল শাহাদাত চৌধুরীর কারণে। লেখক এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রশ্ন তোলেন, আসলে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাধারীরা কে?
Chapter 07
লেখক বিচারক মানিকের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেন, যিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রতি তার আবেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে ছিলেন এবং নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন, কিন্তু বাস্তবে তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। ২০১৮ সালে সরকার আইন করেছে যে প্রবাসে মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণকারীরাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবে। লেখক শামসুদ্দিন মানিকের পদত্যাগের দাবি করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে ভারত মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে কাজে লাগানোর জন্য ইতিহাসকে বিকৃত করেছে।
ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে লেখক বলেন, তারা পাকিস্তানপন্থী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে বাংলাদেশীদের মধ্যে পাকিস্তান বিরোধী মনোভাব তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা মূলত পাকিস্তানপন্থী ছিলেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কখনো পাকিস্তানকে আলাদা করতে চাননি। সাংবাদিক সেলিনা পারভনের উদাহরণ দিয়ে লেখক বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় তার সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করছিলেন এবং তার লেখালেখির কারণে তাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যদিও তিনি প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লেখক এই দ্বন্দ্বের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
Chapter 08
লেখক উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক অংশ এখনও অন্ধকারে ঢাকা পড়ে আছে, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। জহির রায়হানের গুম হওয়া এবং তার ভাই শহিদুল্লাহ কায়সারের গুম হওয়ার ঘটনা এই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। স্বাধীনতার পর জহির রায়হান যে ডকুমেন্টারির উপর কাজ করছিলেন, সেটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানলে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। মেজর জলিলের বক্তব্যের মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেন যে, জহির রায়হান ভারতীয় বাহিনীর লুটপাটের চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই তাকে গুম করা হয়।
জহির রায়হানের পরিবার দাবি করে যে, তার হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাকিস্তানি বাহিনী নয়, বরং দেশের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা জড়িত ছিল। লেখক বলেন, জহির রায়হান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গুম হওয়া ব্যক্তি, এবং এই ঘটনার মাধ্যমে বুদ্ধিজীবী হত্যার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন যে, তারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিলেন। যখন জহির রায়হানের পরিবার বিচার চাইতে গিয়েছিল, তখন শেখ মুজিব তাদের বলেছিলেন যে, এসব নিয়ে বেশি আলোচনা না করাই ভালো। লেখক এই ঘটনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং তাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অন্ধকার দিককে প্রকাশ করে।
Chapter 09
লেখক আরও উল্লেখ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের ইতিহাসের বিকৃতি শুরু হয়েছিল শেখ মুজিবের নেতৃত্বে, যেখানে পাকিস্তান এবং ভারতকে দায়ী করার পরিবর্তে আমেরিকার দিকে আঙুল তোলা হয়। তিনি সিআইএ-র সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, পাকিস্তানকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবের বক্তব্যে তিন লাখ নিহতের সংখ্যা তিন মিলিয়ন বা ৩০ লাখে রূপান্তরিত হয়, যা সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। লেখক দাবি করেন যে, এই সংখ্যা অতিরঞ্জিত ছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার জন্য ভারতীয় দালালদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ মুজিবের ক্ষমতা লাভের পর, ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়। লেখক বলেন, দেশের মেধাবী কবি ও সাহিত্যিকদের অবমূল্যায়ন করে ভারতীয় কবিদের লেখা পাঠ্যপুস্তকে স্থান দেওয়া হয়। নজরুল, জসিম উদ্দিন এবং শহীদুল্লাহদের মতো প্রতিভাবানদের অবহেলা করা হয়, এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যদিও তিনি ছিলেন একজন বাঙালি। লেখক এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ইতিহাসের উপর ভারতীয় প্রভাবের গভীরতা তুলে ধরেন।
Chapter 10
লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে তিনি তার বিভিন্ন রচনায় মুসলমান ধর্মকে আক্রমণ করেছেন। কাবুলিওয়ালা এবং পুরান দুরাশা গল্পগুলোতে মুসলমানদের প্রতি তার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। লেখক উল্লেখ করেন যে, রবীন্দ্রনাথের মতে, ধর্মের মধ্যে ভালো মানুষ হওয়া জরুরি, কিন্তু তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রকে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
রবীন্দ্রনাথের জন্মভূমি প্রবন্ধে তিনি হিন্দু ধর্মের বাইরের অন্য ধর্মের উপাস্যকে অস্বীকার করেন এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সৈয়দ মুজিবুল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক জানান যে, মোতাহার হোসেন চৌধুরী রবীন্দ্রনাথকে প্রশ্ন করেছিলেন কেন তিনি ইসলাম বা নবী সম্পর্কে প্রশংসাসূচক কিছু লেখেননি, যার উত্তরে রবীন্দ্রনাথ বলেন যে, কোরআন পড়তে গিয়ে তিনি নবীর চরিত্র ভালো লাগেনি।
লেখক রবীন্দ্রনাথকে তেলবাজ লেখক হিসেবে চিহ্নিত করেন, যিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় ইংরেজদের প্রশংসা করে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। তার কণ্ঠরোধ প্রবন্ধে মুসলমানদের ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনকে ব্যঙ্গ করে লেখেন, যা তার মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের আরও একটি উদাহরণ।
Chapter 11
লেখক উল্লেখ করেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংরেজদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের আন্দোলনকে একটি সন্তুষ্টি হিসেবে দেখতেন, যেখানে তিনি মুসলমানদের নির্যাতনের ঘটনাকে ইংরেজদের প্রতি প্রতিশোধ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি মুসলমানদের শিক্ষার বিরোধিতা করে বলেছিলেন যে চাষার ছেলেদের জন্য বিদ্যা কিসের। ১৯১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তিনি কট্টর হিন্দুদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, কারণ তিনি মনে করতেন যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে মুসলমানরা লেখাপড়া শিখবে।
লেখক আরও বলেন যে, ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা মুসলমানদের ইসলামী আদর্শ ও চেতনাকে বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটিয়েছে এবং শিক্ষার মান নষ্ট করেছে। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশে ইসলামী মূল্যবোধকে শিক্ষা ব্যবস্থার থেকে আলাদা করা হয়, কারণ ভারত জানতো যে ইসলামী মূল্যবোধ বাংলাদেশের মানুষের ঐক্যের শক্তি। এই প্রেক্ষাপটে, লেখক বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাস এবং ইসলামের প্রভাবের উপর আলোকপাত করেন, যা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
Chapter 12
লেখক উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় লোগোর পরিবর্তনগুলি রাজনৈতিক প্রভাবের একটি উদাহরণ। ১৯২১ থেকে ১৯৫২ সালের ব্রিটিশ আমলের লোগো থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলে কোরআনের ছবি যুক্ত করা হয়েছিল, যা শেখ মুজিবের ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭২ সালে মুছে ফেলা হয়। এরপর লোগোতে "পড়ো তোমার সৃষ্টিকর্তার নামে" লেখার পরিবর্তে "শিক্ষায় আলো" লেখা হয়, যা ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সূরা ফাতেহার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলেও স্বাধীনতার পর দুর্গার প্রশংসা শুরু হয়, যা লেখকের মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ধর্মীয় ভিত্তিকে দুর্বল করে। শেখ মুজিবের শাসনামলে ১৯৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, যেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অপরাধের ঘটনা বেড়ে যায়।
লেখক আরও বলেন যে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশুদেরকে রান্না, ঘর গুছানো এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ শেখানো হচ্ছে, যা লেখার মাধ্যমে শেখানোর পরিবর্তে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এই পরিবর্তনগুলি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং লেখক উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের শিক্ষা শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে যথেষ্ট সহায়ক হবে না।
Chapter 13
লেখক মনে করেন যে, শিশুদের রান্না শেখানোর পরিবর্তে তাদের মৌলিক শিক্ষার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে অশালীন বিষয়বস্তু দেখার প্রবণতা বেড়ে গেছে, যা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গণিতের মৌলিক ধারণাগুলি যেমন যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, এসবের প্রতি তাদের আগ্রহ এবং দক্ষতা কমে যাচ্ছে।
শিক্ষকদেরও এই পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে, কারণ তারা শিক্ষার্থীদের মৌলিক বিষয়গুলো শেখাতে পারছেন না। লেখক অভিযোগ করেন যে, শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে শিক্ষকদের স্বাধীনতা হ্রাস পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক একটি আলোচনার আয়োজন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসনিক বাধার কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়।
লেখক দাবি করেন যে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের পরিকল্পনা ভারত থেকে এসেছে এবং এর বিরুদ্ধে কোনো আলোচনা বা সমালোচনা সহ্য করা হচ্ছে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখক বলেন, দেশের শিক্ষায় যে সমস্যা রয়েছে, তার মধ্যে কারিকুলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিন্তু তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে না।
Chapter 14
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব নিয়ে লেখক উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেখানে সরকারের একজন মন্ত্রী দাবি করেছেন যে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকারের ভেতরে বা বাইরে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে এই শিক্ষা ব্যবস্থা এসেছে কোথা থেকে? লেখক বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা হাস্যকর হলেও এটি একটি জাতিকে মেরুদণ্ডহীন করে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র। আধুনিকায়নের নামে বিজ্ঞানহীন এবং টিকটকার জাতি তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এখনকার শিক্ষায় নাটক, গান এবং আর্টের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু মৌলিক শিক্ষার কোনো গুরুত্ব নেই। লেখক দাবি করেন যে, দেশের সব প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং গোটা দেশ রাজনীতিবিদ তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, খেলোয়াড়, ব্যবসায়ী, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের এখন একটাই স্বপ্ন—সংসদে একটি আসন পাওয়া, কারণ এটি এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা।
লেখক আরও বলেন, এই ব্যবসায় কোনো মেধা বা পুঁজির প্রয়োজন নেই, শুধু রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া শিখলেই চলবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থার অবনতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন, যেখানে একসময় এটি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু এখন এশিয়ার ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও নেই। ভারত চায় যে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে গিয়ে বাথরুম পরিষ্কার শিখে, পরে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে আরব শেখদের বাথরুম পরিষ্কার করে রেমিটেন্স পাঠাক।
Chapter 15
ভারতীয়রা বিজ্ঞান ভিত্তিক পড়াশোনা করে এবং বাংলাদেশের বড় বড় পদগুলোতে চাকরি করে, যার ফলে তাদের রেমিটেন্স ভারতেই চলে যায়। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ এখন ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রাপ্তির দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং অচিরেই এক নম্বরে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। লেখক শেখ হাসিনার নরেন্দ্র মোদিকে 'স্বামী' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই মেধাহীন জাতি এমনভাবে গড়ে উঠছে যে তারা প্রতিবাদ করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে।
লেখক দাবি করেন, এই জাতি শুধু দুধ ভাত খেয়ে হাজারো অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করলেও প্রতিবাদ করবে না। তাদেরকে কথিত বঙ্গবল্টু স্যাটেলাইট বানানোর কথা বলে ৪০০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ৫০ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে। এমন একটি জাতির মাথায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের বিদেশী ঋণ চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। লেখক উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে।

Comments
Post a Comment