What Will Be the Ultimate Fate of Israel? What Does the Qur'an Say About This? কী হবে ইসরায়েলের শেষ পরিণতি? কুরআন কী বলে এই ব্যাপারে? #RafahOnFire | টোয়ার্ডস ইটার্নিটি

কী হবে ইসরায়েলের শেষ পরিণতি? কুরআন কী বলে এই ব্যাপারে? #RafahOnFire | টোয়ার্ডস ইটার্নিটি


Chapter 01

লেখাটি ইসরায়েলের শক্তি ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের উপর হামলার নৃশংসতা এবং তার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ রয়েছে যে হামলার সময় শিশু, নারী ও নিরপরাধ মানুষ নিহত হচ্ছে, যা মানবতার জন্য ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। লেখক প্রশ্ন করছেন কিভাবে এমন খুনি আচরণ করা সম্ভব, যেখানে আক্রমণকারীরা জানে তারা কি ধরনের ধ্বংসলীলা সাধন করছে। রাফা শহরের পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয়েছে, সেখানে ভয়ঙ্কর দৃশ্যের মাঝে মানুষ হতাশ এবং উদ্বিগ্ন। লেখক তিপ্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের চুপ থাকার বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কেননা আন্তর্জাতিক আদালত ও অন্যান্য সংগঠনগুলো আক্রমণ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে, কিন্তু সেই আহ্বান উপেক্ষিত হচ্ছে। এই সবের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের মনের উদ্বেগ ও দুঃখ ফুটে উঠেছে, কারণ তাদের প্রিয়জনদের মরদেহের মধ্যে মুখ চেনার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, মানবতার এই অবিচার এবং অব্যাহত আক্রমণের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
Chapter 02
এখানে লেখা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো একসাথে যদি তেল সরবরাহ বন্ধ করে বা নিষেধাজ্ঞা জারি করতো, তবে ইসরায়েলকে আটকানো সম্ভব হতো। লেখক দাবি করেছেন যে, বিশ্ব যদি একত্রিত হয়ে বলতো নিরীহ শিশু এবং নারী হত্যার অবসান ঘটাতে হবে, তাহলে পরিস্থিতি পাল্টাতে সময় লাগতো না। কেননা, কেবল একটি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মাধ্যমে শান্তি ফেরানো সম্ভব হতো। তবে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের পেছনে যে রাজনৈতিক নেতাদের বিক্রি হয়ে যাওয়া এবং তাদের স্বার্থ রয়েছে, সেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। ইসরায়েল কীভাবে ফিলিস্তিনিদের বহুবার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে, সেটি উল্লেখ করা হয়েছে। 
রাফাতে নিরাপত্তার আশায় স্থানান্তরিত হওয়া ফিলিস্তিনিদের উপর দেশটির নৃশংস আক্রমণ চালানোর চিত্র বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বিরোধী পক্ষের হামলার ফলে বোমা বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং অস্বাভাবিকভাবে ৪৫ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন, আহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। লেখক ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং তাদের নিরীহ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে একজন ইতিহাসবিদের অভিব্যক্তি তুলনা করেছেন, যে যেখানে সাহায্যের আশা ভঙ্গ হচ্ছে সেখানে মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়াই অনেকটা হিটলারের কৌশলের মতো। এই পরিস্থিতি মানবতার জন্য এক ভয়ঙ্কর চিত্র হয়ে উঠছে, যেখানে দমন-পীড়ন এবং নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নিষ্পাপ জনগণ।
Chapter 03
লেখক উল্লেখ করেছেন যে, নির্দিষ্ট স্থানে মানুষের জড়ো করার পর সেখানেই গণহত্যার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমাজ যখন একটি এলাকাকে 'সেফ জোন' বলে অভিহিত করে, তখন সেখানেই নিরীহ মানুষেরা মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। ইসরায়েল যেভাবে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তা থেকে এটি প্রতীত হচ্ছে যে, রকেটের আঘাতগুলো ভুলবসত নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। পূর্বে ইসরায়েল নিজেদের রক্ষা করার কথা বললেও, হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তা গণহত্যায় পরিণত হচ্ছে।
সংখ্যাতত্ত্ব তুলে ধরে দেখানো হয়েছে যে, ১৫,২৩৯টি শিশু, ১,০৯৩ জন নারী সহ মোট ৩৫,৯৮৪ জন মানুষ মারা গেছে, এবং ৮০,৬৪৩ জন মানুষ আহত হয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলি মানবজাতির উপর একটি ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করেছে। মৃত্যুর শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো যে অকল্পনীয় মানসিক যন্ত্রণায় ভোগ করছে, সেটি বর্ণনা করা হয়েছে। লেখক এক শিশুর ভিডিওর মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে, কতটা নিরাশ এবং আবেগহীনভাবে বেঁচে থাকা হয়। 
এমতাবস্থায়, মুসলিমরা বিশেষভাবে তাদের ইবাদত ও রোজার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়ার আশা করে, কিন্তু বাস্তবতায় যখন তাদের সামনে মরমর কান্না এবং সহিংসতা তৈরি হয়, তখন তারা কি করে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী, মানবতার তন্দ্রাহীনতার সে স্তরে পৌঁছে যাওয়া ভাবনার বিষয়।
Chapter 04
লেখক আলোচনার পরিধি সম্প্রসারণ করে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দয়ালু স্বভাবের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তিনি শিশুর পোষা পাখি মারা যাওয়ার পর সেই শিশুকে সান্ত্বনা দিতে গিয়েছিলেন, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ধর্ম শুধুমাত্র নামাজ ও রোজার মতো ফরজ কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা মানবতার সেবা ও অন্যদের প্রতি সহানুভূতির নির্দেশনা দেয়। লেখক অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, কি করে নেতারা পরিস্থিতি দেখেও নিরব থাকে? 
গার্ডিওয়ালার মতো তারকা ব্যক্তিত্বরা যখন ইসরায়েলির সাথে হ্যান্ডশেক করতে অস্বীকৃতি জানান, তখন অন্যদের চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে চিন্তা করতে হবে। লেখক কঠোর ভাষায় বলেছেন, ইসরায়েল যদি কাউকে হত্যা করে, তবে তার কাছে এটি দায়িত্ব নয় বরং অস্তিত্বের প্রশ্ন। তারা যে পরিস্থিতিতে রয়েছেন, সেখানে লড়াই বা সংঘাত ছাড়া বেঁচে থাকার কোনও অর্থ নেই। এটি পারিবারিক ইতিহাসে একটি কালিমা হিসেবে থেকে যাবে, যাতে প্রশ্ন উঠবে, যে সময়ে গণহত্যা চলছিল, তখন তারা কী করেছেন।
লেখক বলছেন যে, অধিকাংশ মানুষ নিজেদের স্বার্থের কারণে চুপ রয়েছেন অথবা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে সাহস পান না। এভাবে তারা সক্রিয় বিভাগের একটি অংশ না হয়ে নিষ্ক্রিয় থাকাকেই বেছে নিচ্ছেন। সমস্ত সংকটের মধ্যে, প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব এবং ভূমিকা থাকা উচিত, যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম তাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে গর্বিত হতে পারে।
Chapter 05
লেখকের মতে, সমর্থনের প্রশ্নে অনেক সেলিব্রিটি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি এখনও অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, যা তাদের জনসমর্থনকে সংকুচিত করছে। মানুষের মধ্যে একটি শক্তিশালী জনমত তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করতে পারে। ৭ অক্টোবরের পর থেকে জনমত কতটা শক্তিশালী হয়েছে, তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এখন এ নিয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে যা আগে ছিল না। তারা বলছে, ইসরাইলকে সতর্ক করা হচ্ছে, এবং যদি তারা হত্যা চালিয়ে যায় তবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা হবে। 
এটি বোঝায় যে এই নেতারা নির্বাচনের আগে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছেন। আমেরিকান জনগণ এখন স্পষ্ট করে বলছে, তারা ভোট দিতে প্রস্তুত নয় যদি ইসরাইলের জন্য তাদের ট্যাক্সের অর্থ ব্যবহার করা হয়। লেখক প্রশ্ন করছেন, কেন এত মানুষ, যাদের বিশাল ফ্যান ফলোয়ার্স রয়েছে, এখনও ফিলিস্তিনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলছেন না? কুকুরের মৃত্যুতে তারা তৎপর থাকেন কিন্তু শিশুমৃত্যুর বিষয়টি তাদের এতটাই নির্লিপ্ত করছে। 
এটা ভাবানো উচিত, মৃত্যুর পর আমাদের কীভাবে বিচার করা হবে? শুধুমাত্র এবাদত পালন করার মাধ্যমে কি আমাদের পাপ মাফ হবে? রাসূলের অবিরাম শিক্ষা অনুসারে, হত্যাকাণ্ডের সমর্থকরা শুধু সাময়িকভাবে ব্যবস্থাপনায় থাকবে না, বরং তাদের শাস্তি হবে এবং তাদের অকল্পনীয় কঠোরতার জবাবও দিতে হবে। লেখক সাফ বলছেন, ধর্মীয় আবহে যদি আমরা শুধু সালাত এবং সাওমকেই খুব গুরুত্ব দিই এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু নিন্দা না করি, তবে আমরা মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হতে পারি।
Chapter 06
লেখক উল্লেখ করছেন, কিছু মানুষ ইসরায়েলের ঘটনার বিষয়ে উদাসীনতা প্রদর্শন করছেন, এবং বলছেন এটি তাদের ব্যক্তিগত ইস্যু নয়। সার্ভে অনুযায়ী, অনেকেই ফিলিস্তিনে ঘটনার প্রতি নিরপেক্ষ থেকেও সরে গেছেন, কারণ ইসরায়েলের অত্যাচারের মাত্রা এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির জন্য শিশুমৃত্যুর বিষয়টিও গুরুত্বহীন। লেখক প্রশ্ন করছেন, কিভাবে একজন মুসলিম হিসেবে আপনার বিবেকে এসব নিয়ে নাড়া দেয় না? শিশুরা যেভাবে মারা যাচ্ছে, তা কি আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করে না? 
লেখক আরও বলেন, আমাদের মধ্যে যারা নিজেদের আরাম এবং স্বার্থের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়, তারাই মূলত এই হত্যাযজ্ঞের কঠোর সমালোচনা করতে পারেন না। তারা একা নিজেদের সুরক্ষা এবং স্বার্থের জন্য চুপ থেকে যায়। ৭ই অক্টোবরের পরে পরিস্থিতি শুরুতে হামাসকে দোষারোপ করা হয়েছে, কিন্তু এখন সত্যিটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যারা এখনও এই ব্যাপারে চুপ থাকছেন, তাদের উচিত সব সংশয় পেছনে ফেলে সঠিকভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করা। গণমানুষের এই সমালোচনা এবং সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মানবতার পক্ষে একটি যুক্তিসঙ্গত অবদান রাখতে পারে।
Chapter 07
লেখক মানবিক আবেদনের মাধ্যমে আমেরিকান নাগরিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখছেন, কিভাবে তারা নিজেদের ভূমিকা বুঝতে পারছেন। তিনি উল্লেখ করছেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের হত্যার জন্য তাদের ট্যাক্স ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে তারা এই গণহত্যার অংশীদার হয়ে যাচ্ছে। লেখক আবারো বলছেন, যাদের উদ্দেশ্য সৎ, তাদের উচিত জনমত তৈরি করা, শেয়ার করা এবং ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা। 
তিনি ফিলিস্তিনি শেখ ওমর সুলেমানের উক্তি তুলে ধরেছেন, যিনি আমেরিকাতে বসবাস করছেন এবং তার ট্যাক্সের টাকাও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ওমর উল্লেখ করেছেন, নিজের অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতে হলে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না রাখতে হলে অবিলম্বে প্রতিবাদ করতে হবে। লেখক ৭ই অক্টোবরের পর ১৫,২৩৯ জন শিশুর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বছরের পর বছর ধরে চলা এই হত্যাযজ্ঞের সংখ্যা আরও বাড়ছে। এছাড়া, তিনি বলেন যে, শুধুমাত্র গত আট মাসেই ৩৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যা এমন একটি পরিস্থিতিকে চিত্রিত করে যে, এটি এক বিশাল ট্রাজেডি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Chapter 08
লেখক ৭ই অক্টোবরের ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বলেন যে, পুরো বিশ্বের জনমতকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসা হয়েছে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বানোয়াট কিছু অভিযোগে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মানবিক অপরাধের কথাগুলো তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি যারা এসব কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই পরে স্বীকার করেছেন যে তারা এমন দৃশ্য বাস্তবে দেখেননি। 
লেখক রাফা শহরের কিছু হৃদয়বিদারক দৃশ্যও বর্ণনা করেছেন যেখানে একটি শিশু নিখোঁজ হয়ে যাওয়া অবস্থায় অল্প বয়সী এক পুরুষের বুকে আটকে ছিল। তিনি জানিয়েছেন যে, বোমায় বিধ্বস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত শরীরের ছবি দেখেছেন, এবং যেভাবে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে তা উদ্বেগজনক। এরপর তিনি ইসরায়েলের নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, যেখানে ৩৫,০০০ নিরপরাধ মানুষ, ১০,০০০ নারী ও ১৫,০০০ শিশু নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
এই পরিস্থিতিতে লেখক একটি কাল্পনিক দৃশ্য কল্পনা করতে বলেন, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি শিশুর উপর আক্রমণ করছে এবং হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে। তিনি প্রশ্ন করছেন, যদি এ ধরনের ঘটনা সত্যিই সৃষ্টি হত, তাহলে বিশ্বজনমত কি একই রকমভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন করত নাকি পরিস্থিতি ভিন্ন হত? লেখক এই প্রশ্নের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের এক নতুন ধারার দিকে ইঙ্গিত করছেন, যেখানে মানুষের মানবিক অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
Chapter 09
লেখক পরিস্থিতির বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েলের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিতে কিছু মানুষ তাদের নিউক্লিয়ারের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের নিপীড়ন করার আহ্বান জানাচ্ছে, আর এই অবস্থায় বিশ্বের মানুষের নির্লিপ্ততা তাকে বিস্মিত করছে। তিনি নবীজির হাদিস উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে অন্যায় দেখলে মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। লেখক বিশ্বাস করেন যে, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সকলের দায়িত্ব, এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর যে অন্যায় হচ্ছে তা থামাতে না পারা ব্যক্তিদের অপরাধও কম নয়।
জিজ্ঞাসা করেছেন ইসরায়েলের পতন কিভাবে হবে এবং সে সম্পর্কে তার বক্তব্য হল, জালিমদের বিচার অবশ্যই হবে—আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে এটি এই দুনিয়াতেই ঘটবে। তবে তিনি জানাচ্ছেন, যেহেতু এই অপরাধীরা অধিকাংশই এখনও জীবিত আছে, তাদের বিচার হতে আরও কিছু বছর লাগবে। লেখক আশাবাদী যে, ২০, ৩০ কিংবা ৫০ বছরের মধ্যে আল্লাহর ন্যায়ে তাদের শাস্তি হবে এবং এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। 
তিনি আরো বলেন যে, ৩৫,০০০ শহীদের মধ্যে ১৫,২৩৯ জন শিশু জান্নাতে সুখী, কারণ তারা পরকালীন জীবনে পৌঁছে গিয়েছে। তাদের যন্ত্রণার কথা মনে করে, লেখক দেখতে পাচ্ছেন যে, এই শিশুদের প্রিয় জীবন এখন আল্লাহর দয়ায় জান্নাতে রয়েছে এবং এটা তাদের জন্য এক নতুন আশা। এইভাবে লেখক বিশ্বাস রাখেন, একটি দিন আসবে যখন মজলুমদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অত্যাচারীদের শাস্তি সুনিশ্চিত হবে।
Chapter. 10
লেখক বলেন, কষ্টের দিন শেষ হতে চলছে, কিন্তু যারা পিছনে রয়ে গেছে, তাদের জন্য এখনও কষ্ট বিদ্যমান। তাই আমাদের উচিত তাদের সান্ত্বনা দেওয়া। তিনি ইসরায়েলের পরিণতির প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কুরআনে সূরাতুল ইসরাইলের চতুর্থ এবং অষ্টম আয়াত তুলে ধরেন, যেখানে ইহুদিদের অতীতের দুবারের কলুষিত হওয়ার ইতিহাস উল্লেখ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে তাদের পতনে পরিণত হয়েছে। প্রথম পতন ঘটে ৫৯৮ খ্রিষ্ট পূর্বে ব্যাবেলনীয়দের দ্বারা এবং দ্বিতীয় পতন ঘটে ৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমানদের দ্বারা। 
লেখক উল্লেখ করেন যে, কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, যদি বনী ইসরাইল পাপের পথে আবার ফিরে আসে, তবে আল্লাহর শাস্তিও তাদের ওপর ফিরে আসবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, জুলুম যদি একই মাত্রায় থাকে, তবে তা ধ্বংসের শিকার হয় না, বরং যখন সেই জুলুমের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তখন প্রতিবাদ জাগে। বর্তমান সময়ে একটি জনমত এবং সার্বজনীন চেতনা গড়ে উঠছে, যা নিপীড়নের অবসানের প্রতিশ্রুতি দেয়। 
ইতিহাসে বিভিন্ন অত্যাচারীর বিচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সকলের অন্তিম পরিণতি ছিল এক। লেখক আশা প্রকাশ করেন, ইনশাআল্লাহ, এবারও তাই হবে এবং আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব, যাতে আল্লাহ সমস্ত অত্যাচারীকে বিনাশ করেন।

Comments