বাংলাদেশ ভূখন্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় কলকাতা ! অখন্ড বাংলার পথে বাঙালিরা । Kolkata Bangladesh
মাওলানা ভাষানী এক জনসভায় উল্লেখ করেছিলেন যে কলকাতা, আসাম এবং ত্রিপুরা বাংলাদেশের অংশ না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মানচিত্র পূর্ণ হতে পারে না। কলকাতা বাংলাদেশের অংশ হলে দেশটির জনসংখ্যা প্রায় 33 কোটিতে পৌঁছাবে এবং বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জনবহুল দেশে পরিণত হবে। এর ফলে বঙ্গোপসাগরের উপর বাংলাদেশের কর্তৃত্ব বাড়বে এবং বাংলাদেশ আয়তনে বৃহত্তর হবে, যা বর্তমানে 1 লাখ 47570 বর্গ কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গের আয়তন 88 হাজার 7752 বর্গ কিলোমিটার যোগ হলে অখন্ড বাংলাদেশের আয়তন দাঁড়াবে 2 লাখ 3632 বর্গ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে। কলকাতা একসময় অখন্ড বাংলার অংশ ছিল, কিন্তু ইংরেজ এবং পশ্চিম পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্রের কারণে এটি হারিয়ে যায়। কলকাতার মানুষ কেন আবারো বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় এবং সেই ষড়যন্ত্রের কারণগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন ভিডিওতে, যেখানে ভারতের স্বাধীনতার পূর্বের সময়ে কলকাতার অর্থনৈতিক ও জনবহুল অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতা ছিল ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজধানী, যেখানে ব্রিটিশরা ঢাকা থেকে দিল্লি পর্যন্ত শাসন করতো। এ কারণে কলকাতার গুরুত্ব পরিস্কার, যেহেতু এটি এক সময় পুরো এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ধনী শহর ছিল এবং লন্ডনের পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী হিসেবে বিবেচিত হতো। আধুনিক শিল্পায়নের সূচনা কলকাতা থেকেই, যেখানে 1780 সালে প্রথম ছাপাখানা চালু হয় এবং 1854 সালে প্রথম রেললাইন চালু হয়। শহরে 1895 সালে প্রথম বৈদ্যুতিক বাতিও জ্বলে ওঠে। এই কারণেই কলকাতা শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কেন্দ্রে পরিণত হয়। যদি কলকাতা বাংলাদেশের অংশ হয়ে থাকতো, তবে বাংলাদেশ আজ অনেক উন্নত দেশ হয়ে উঠতো। কলকাতা হাতছাড়া হওয়ার পেছনে মোহাম্মদ আলী জিন্নার পরিকল্পনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি ভালোভাবে বুঝতে পারছিলেন যে কলকাতা পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ভারতভাগের সময় কলকাতা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হলে পশ্চিম পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ বাঙালিদের হাতে চলে আসতো, যা রাজনৈতিকভাবে তাদের জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টি করতো। তখনকার পাকিস্তানের নেতা জিন্না দূরদর্শী রূপে এ বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন।
কলকাতা যদি পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হতো, তবে পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ কখনোই রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হতে পারতো না, কারণ পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় বেশি ছিল। জাতীয় নির্বাচনে বাঙালিরা বারবার বিজয়ী হতো এবং কলকাতা পাকিস্তানের রাজধানী হলে সেখানে বাঙালিদের প্রাধান্য সত্ত্বেও জিন্না এটিকে চাননি। এজন্য তিনি বাঙালিদের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র শুরু করেন। জিন্না, কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহেরুর সাথে বৈঠক করে কলকাতার বিনিময়ে পাঞ্জাব প্রদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। ভারতীয় কংগ্রেসের নেতারা রাজি হয়ে যান, কারণ ব্রিটিশদের ফেলে যাওয়া আধুনিক অবকাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাগার সবকিছুই কলকাতায় ছিল। কার্যত, কংগ্রেস নেতারা কলকাতাকে বাংলার ভূখণ্ড থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি। পাঞ্জাবের কিছু অংশ পশ্চিম পাকিস্তানকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে কলকাতা শহরটিকে হস্তান্তর করা হয়। পূর্ব বাংলার নেতারা এ প্রস্তাবকে ঘৃণা করে প্রত্যাখ্যান করেন, বিশেষ করে পূর্ব বাংলার প্রভাবশালী নেতারা যেমন মাওলানা ভাষানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। ব্রিটিশ আমলের আগে ভারতবর্ষের সবচেয়ে ধনী শহর কলকাতা ছিল, যার মজ্জাগত ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এখানকার মানুষের মধ্যে গর্বের কারণ।
কলকাতা কিন্তু ভারতের স্বাধীনতার পর হারিয়ে যায় তার পূর্বের মর্যাদা, ভারতভাগের ফলে শহরটি সবদিক থেকে পিছিয়ে পড়ে। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মাথাপিছু আয় মাত্র ১,১৬৮ ডলার, অন্যদিকে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ২,৮২৪ ডলার। কলকাতা শহরটি মূলত পূর্ববাংলার মানুষের শ্রম, ঘাম ও রক্তে গড়ে উঠেছিল এবং পূর্ব বাংলার কৃষকেরা ছিল কলকাতার শিল্প কারখানার কাঁচামালের প্রধান যোগানদাতা। শহরের বড় বড় অট্টালিকা, রাস্তাঘাট এমনকি infrastructural উন্নয়ন সবই পূর্ব বাংলার মানুষের শ্রমে গড়েছে। এখন কলকাতার অধিকাংশ বাঙালিই চায় যে, বাংলাদেশ ও কলকাতা এক হয়ে গড়ে উঠুক একটি অখন্ড বাংলার রূপে, যাতে কলকাতা আবার ফিরে পায় তার হারানো সেই মুকুট। আলোচনা শেষে, লেখক দর্শকদের মতামত জানাতে আহ্বান করে এবং প্রত্যাশা করে যে, দুই বাংলা এক হয়ে নতুন একটি সত্তা গড়ে উঠুক।

Comments
Post a Comment