মাদ্রাসা ছাত্রদের নিয়ে শেখ হাসিনার পরিকল্পনা। Pinaki Bhattacharya lecture About Madrasa' Students.
মাসিক-বীর্যপাত,কনডম এসব কি শেখানো হচ্ছে শ্রেণীকক্ষে? #eliashossain #15minutes #education #bangladesh
যে মাদ্রাসা ছাত্রদের নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে সেখানে র্যাবের কার্যক্রমও লক্ষণীয়। র্যাব সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে যারা জঙ্গিবাদে যুক্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় গুপ্তচরবৃত্তি ও অভিযান পরিচালনা করছে। স্থানীয় বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের দিকে নজর রেখে, পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা রোধে কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। র্যাবের মধ্যে থাকা তথ্য অনুযায়ী, জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল সারকিয়ার একাধিক সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে এবং ২০০০ এরও বেশি জঙ্গিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনলাইনে মোবাইল হ্যাকিংয়ের যোগ্যতা অর্জনকারী অল্পবয়সী সদস্যদের নেটওয়ার্কও বাড়ছে। এসব ছাত্রদের মাঝে উগ্রবাদী বই ও প্রচারপত্রের প্রসার উদ্বেগের বিষয়। র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, এবারের গ্রেপ্তারকৃতদের মাঝে ইসলামপন্থী উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা রয়েছেন যা প্রমাণ করে যে, মাদ্রাসার মধ্যে গোপনে জঙ্গি কার্যক্রম বেড়ে চলেছে। জঙ্গিরা সচেতনতামূলক অভিযানে, বিশেষ করে সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে, তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, যা একটি মারাত্মক সমস্যা।
Why Did Nijhum Majumdar Drink Harpic? নিঝুম মজুমদার কেন হারপিক খেয়েছিলেন?
এটি স্পষ্ট যে, সংবাদমাধ্যমগুলো যেমন প্রথম আলো ও ডেলিস্টার সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইসলাম সম্পর্কে একটি বিশেষ ধরনের ধারণা তৈরি করছে, যা বাংলাদেশের আলেম সমাজের প্রতি অবহেলা সৃষ্টি করছে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে অপমানজনক বক্তব্য ছাড়াও, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি হয়েছে যাতে তারা নিজেদের শান্তিপূর্ণ আদর্শ থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। এটি একটি গুরুতর সংকট যা বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে, এবং তা সমাধানের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর সমাজের দৃষ্টি ও প্রস্তুতির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বই ও কন্টেন্টের বিষয়ে একটি বিতর্ক চলছে। কিছু সাধারণ ধর্মীয় বইকে উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং এগুলো প্রকাশ্যে অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে, প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বইগুলোকে জিহাদী কিতাব হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও এগুলোর মূল কন্টেন্ট সাধারণ ধর্মীয় বিষয়াদি। এমনকি র্যাবও কিছু বইপত্র এনে ছবির জন্য ব্যবহার করে, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে। তাদের কার্যক্রমে বইগুলোকে নিষিদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা ঘটছে, আবার এদের নিয়মিত প্রচারণার জন্য ফুটেজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বইস্থানগুলো থেকে যেমন রকমারি, সেখানে এসব বিতর্কিত বই বিক্রি হচ্ছে, আইনতভাবে এটি অপরাধ নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, রাষ্ট্রের কি অধিকার আছে কোন বইকে উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার? যেমন, একজন লেখকের লেখা ‘বেবিজ ডায়রি’ নামক শৈশবের স্মৃতিগত বইকে উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, ইসলামী সাহিত্য সম্পর্কে এক ধরনের অজ্ঞতা প্রকাশ পায় যেখানে বিভিন্ন লেখক ও বই সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায়, এক সাধারণ গতিতে সবকিছুকে জঙ্গিবাদী মনে করা হচ্ছে।
এটি স্পষ্ট যে, বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত যে মৃগয়া চলছে, তা মাদ্রাসা ছাত্রদের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং মানসিকতার বিকৃতির দিকে নিয়ে যাচ্ছ। ধর্মীয় শিক্ষা ও মৌলিক ধারণাগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ফলে, সমাজে একটি সংকটময় পরিবেশ তৈরি হতে পারে যা উগ্রবাদের পক্ষে কাজ করতে পারে।
মাদ্রাসা ছাত্রদের প্রতি এমন অবস্থান তৈরি হওয়ার পিছনে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। ইসলাম সম্পর্কিত যে কোনও বিষয়কে জঙ্গিবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রচার চলছে, তাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এটি সরকার ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক স্বার্থ এবং বিরোধী শক্তিকে দমন করার এক এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কেবল আওয়ামী লীগ জানে, এবং তারা মনে করছে যে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন গুলোর সাথে তাদের নিজস্ব নির্বাচনী কৌশল রয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সমাজে আমেরিকার নীতির পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশেও এ ধরনের সন্ধানপ্রবণ মানসিকতা কমতে শুরু করেছে। মুসলমানদের প্রতি দুর্বলতা ও ইসলামোফোবিয়ার কারণে বিভিন্ন এনজিও ও সংগঠনগুলো অর্থ ও সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়েছে। আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণের পরে, একদিকে আন্তর্জাতিক বিদেশনীতিতে ইসলাম বিরোধী পরিস্থিতি কমেছে, অপরদিকে দেশে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির প্রক্রিয়া চলতে থেকেছে। সুতরাং, ইসলামী বিধান মেনে চলাও অনেকের কাছে জঙ্গিবাদী কার্যকলাপ বলে মনে হয়েছে, যা সত্যিকার অর্থেই একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংকট সৃষ্টি করছে।
এ অবস্থায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক নতুন বাস্তবতা প্রবাহিত হচ্ছে, যেখানে আগের মতো সাংস্কৃতিক ঘৃণার উৎপত্তি কমে এসেছে। এটি লক্ষণীয় যে এখন মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে এবং তারা নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করছে।
কয়েক বছর ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে যে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনও ঝুঁকি নেই এবং দেশের নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম সেফেস্ট দেশ। র্যাবের মহাপরিচালক হারুন রশিদ দাবি করছেন যে বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং জঙ্গি হামলার কোনও সংখ্যা নেই। যদিও তিনি একথা ঘোষণা করেছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান আসাদুজ্জামান এই দাবিকে অস্বীকার করেছেন, উল্লেখ করে যে দেশে এখনও জঙ্গিবাদের ঝুঁকি বিদ্যমান।
তিনি বলেন, কিছু সংগঠন অতীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিল এবং তাদের মধ্যে জামায়েতুল মুজাহিদুন বাংলাদেশ ও আনসার আল ইসলাম এখন বেশি সক্রিয়। সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের বিবৃতির পার্থক্য রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত করে, যেখানে এক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একটি মেসেজ দিচ্ছে এবং অন্যটি ভিন্ন মেসেজ। এ ধরনের বিপরীত বয়ান দেশের নিরাপত্তার সঠিক চিত্র তুলে ধরছে না এবং অধিকার ও নিরাপত্তার মধ্যে বাস্তবিক সংযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সংগঠনগুলোর কার্যকলাপ সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, যা সমাজের মধ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। একই দিনে দুই ভিন্ন সংস্থার দুই ধরনের বক্তব্য দেশের সন্ত্রাসবিরোধী পলিসির কার্যকারিতা ও বাস্তবতার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। এই অবস্থায় সরকারের কৌশল নিয়ে সচেতনতা এবং দায়বদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যাচ্ছে, যা আসন্ন দিনগুলোতে মাদ্রাসা ছাত্রদের ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক সামঞ্জস্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
Top 05 Android Mobiles Under Tk. 10,000 in Bangladesh!
আমেরিকার ইসলামের উপর অবস্থান পরিবর্তনের পরেও বাংলাদেশের জন্য একটি প্রধান এজেন্ডা হিসেবে ইসলাম এবং মুসলমান নিধন রয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ভারত ও আমেরিকার কথাবার্তা নিশ্চিত করছে যে, পুরো পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে। সাংবাদিকদের মধ্যে অজ্ঞতার কারণে মাদ্রাসা ছাত্রদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যাতে মনে হয় মাদ্রাসা হলেই তারা জঙ্গি। তবে সিটিটিসির গবেষণা দেখাচ্ছে যে, জঙ্গিদের মধ্যে মাদ্রাসায় পড়া সদস্যের সংখ্যা মাত্র ২৩ শতাংশ, এবং সাধারণ শিক্ষা গ্রহণকারী সদস্যের সংখ্যা ৭৩ শতাংশ।
এছাড়া, বিভিন্ন এনজিওর গবেষণায় দেখা গেছে, জঙ্গিবাদীর সাথে সঠিক শিক্ষা গ্রহণের সম্পর্ক নেই। সংবাদমাধ্যমে মাদ্রাসা ছাত্রদের বিরুদ্ধে একটি অশুভ নাটক রচিত হচ্ছে, যা সরকারি মিডিয়া গুজব হিসেবে উপেক্ষা করছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য ভাইরাল হচ্ছে, মূলত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার কেন্দ্রিক। মিডিয়ার এই হালকা ভাবে নেয়া বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে এবং এতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ক্রমবর্ধমান।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে একযোগভাবে ৩৫ শিশু নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে জনগণের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ছে। এই হঠাৎ ঘটে যাওয়া নিখোঁজের ঘটনাগুলি নির্দেশ করছে যে, একটি সক্রিয় চক্র মাঠে সক্রিয় হয়েছে, যা শিশুদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। প্রশাসনের অর্ধমৃত অবস্থার কারণে অভিভাবকদের সচেতন হতে বলা হচ্ছে এবং সামাজিক মিডিয়ায় এই খবর দ্রুত শেয়ার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু সরকারি মিডিয়া এই ঘটনাগুলিকে গুজব হিসেবে বিবেচনা করছে।
এটি প্রথমবার হচ্ছে না, অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে গিয়েছে এবং সেগুলি অনেক সময় সরকারপন্থী নাটকের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নিখোঁজ শিশুরা অধিকাংশই ৫ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে, এবং প্রায় ৯৮ শতাংশ মাদ্রাসা ছাত্র। এই পরিস্থিতিতে সরকার বিরোধী গুজব এবং নাটকের আভাস রয়েছে, যা ইসলাম এবং মাদ্রাসা ছাত্রদের বিরুদ্ধে জনমনে ভীতি তৈরি করতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী নওফেল সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, মানুষের মধ্যে মাদ্রাসায় পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে, যা শিক্ষার উপর নতুন করে আলো ফেলছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন যে জঙ্গি নাটকগুলি যেন আরো বাড়তে না পারে। তবে বর্তমানে ঘটে যাওয়া নিখোঁজের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে জড়িত নিখোঁজের ঘটনাগুলো নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহল থেকে মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই নির্দोष শিশুদের হারানোর বিষয়টি তাদের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং বাবা-মা অসহায়ভাবেই পেরেশানির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কিছু মহল এই পরিস্থিতিকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করে সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে।
এখন আবার মুসলমানদের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্ড খেলার চেষ্টা চলছে, যা পূর্বের প্রক্রিয়ার একটি পুনরাবৃত্তি। বিশেষ করে মামুনুল হকের গ্রেফতারের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, তার অপরাধ মূলত সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর প্রতি নজর দেওয়া। তিনি বাবরি মসজিদের আদলে ঢাকাতে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেন এবং এর চেতনাকে আগামী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেন।
নির্মিতব্য মসজিদটি বাবরি মসজিদ নামে উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার প্রতি যে অত্যাচার করা হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে জাতিগত ও ধর্মীয় বিষয়গুলো এখনো বাংলাদেশে কতটা স্পর্শকাতর। একদিকে যেখানে ধর্মীয় চেতনাকে জাগ্রত রাখার চেষ্টা তীব্র হচ্ছে, সেখানে অন্যদিকে তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হচ্ছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে সমাজের ভেতরে ভয়ের ছায়া তৈরি হচ্ছে এবং মাদ্রাসার ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
মাদ্রাসা ছাত্রদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। কিছু নেতা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে বিপদজনক মন্তব্য করে থাকেন, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও উন্মত্ত করে তুলছে। তাঁরা সরাসরি ভারত বিরোধীতার দাবি করে বলেন যে, যদি কোনও প্রতীকী মূর্তি তৈরি হয়, তা ধ্বংস করা হবে। মামুনুল হকের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখান যে, বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের পেছনে ভারতীয় চক্রান্ত আছে এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি নাটক।
এই প্রসঙ্গে, 21শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বক্তা বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করা হয়েছে, এবং বিএনপি ও বিরোধী আলেমদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। সাংবাদিক অঙ্গনে প্রথম আলো ও ডেলি স্টার ব্যবহার করে এই ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক জঙ্গি মামলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা হচ্ছে, যা একটি আইনি প্রহসনের উদাহরণ।
দীর্ঘ তদন্তের পর, 2008 সালের 11ই জুন মামলাটির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং এরপর আরও তদন্তের জন্য সিআইডির পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুর্ভাগ্যবশত, এই বিষয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হলেও সাধারণ মানুষের মাঝে এর গভীরতা খুব কম। মাদ্রাসা ছাত্রদের সম্পর্কে এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে যেন তারা নিরাপদে এবং সমৃদ্ধি লাভ করতে পারে।
জুলাই মাসে, বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ 30 জনের নাম উল্লেখ করে মোট 52 জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এই তদন্তের নামে এক প্রহসনের নাটক রচনা করা হয়েছে, যেখানে আব্দুল কাহার আকন্দের মতো ব্যক্তিরা মূল ভূমিকা পালন করছেন। আকন্দ, যিনি রিটায়ারমেন্ট থেকে ফিরে আসেন এবং চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান, পরে নৌকা টিকিট পাওয়ার মাধ্যমে পুরস্কৃত হন। বক্তা উল্লেখ করেন যে, আব্দুল কাহার আকন্দ আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা 21শে আগস্ট মামলার তদন্তের সাথে সম্পর্কিত।
বক্তা আরও বলেন, 2004 সালে বঙ্গবন্ধুর পরিবার এবং আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে ঢাকায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, যাতে কিশোরগঞ্জের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিলুর রহমানসহ 24 জন নিহত হন। এই মামলাটি বিএনপি সরকারের সময়ে বিপরীত পথে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হয়। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে এবং 'দেশের পুরাতন দল' রক্ষা করতে এই মামলা অপরিহার্য ছিল।
মুফতি হান্নানের একটি স্বেচ্ছায় জবানবন্দী কার্যক্রম 2011 সালে ঘটে, যেখানে তিনি 21শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তারেক রহমানের সাথে কিছু আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্বীকারোক্তি দেন। আকন্দের নাটক পরে এসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি এবং সন্দেহের জন্ম হয়। 27শে অক্টোবর 2021 সালের ঘটনা সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশ পেলে, এই প্রেক্ষাপট আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এ আদালতে মুফতি আন্নান যে কথিত জবানবন্দী প্রত্যাহারের আবেদন করছিলেন, সেই জবানবন্দী মামলার একমাত্র প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়। হাসিনা মনে করেন, 21শে আগস্ট মামলার যুক্তিতর্কের আগেই তাকে সরিয়ে ফেলা নিরাপদ হবে, কিন্তু এর আগে একটি নাটক সাজানো প্রয়োজন ছিল। তাই 6ই মার্চ 2017 সালে, প্রিজন ভ্যানে রেখে একটি জঙ্গি হামলার নাটকের মাধ্যমে পাবলিক অপিনিয়ন তৈরি করা হয় যে মুফতি আন্নান বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তার 164 ধারার ওপর ভিত্তি করে মামলার চার্জশিট তৈরি হলেও, নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে উত্থাপিত হয়।
এক মাসের মধ্যে, অন্য একটি মামলায় তার ফাঁসি কার্যকর করা হয় 11ই এপ্রিল 2017, terwijl বিএনপি নেতারা হাসিনা আমলের এই বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বেশি মন্তব্য করেনি, শুধুমাত্র 21শে আগস্টের ঘটনার উপর একটি বিবৃতি দেয়। এই প্রেক্ষাপটে, হেফাজত এবং কওমি সমামনাদের উচিত হবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা, অন্যথায় হাসিনা প্রশাসনের নতুন জঙ্গি নাটক চলতে থাকবে।
এদিকে, 2021 সালে হেফাজত যখন মোদির বাংলাদেশে আগমন নিয়ে প্রতিবাদ করছিল, তখন ডেইলি স্টার একটি খবর প্রকাশ করে জঙ্গি সংগঠন হুজি হেফাজত দখল করার চেষ্টা করছে বলে। এখানে বোঝা যায় যে, ভারত বিরোধিতাকে ইসলামী জঙ্গিবাদের সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে, যা দেশের স্বার্থের জন্য বিপজ্জনক। প্রতিটি ঘটনায় প্রশাসনের সম্মুখীন অবস্থান এবং তাদের কর্মকাণ্ডে যে চক্রান্ত রয়েছে, তা রাজনৈতিক অস্থিরতার এক নতুন অধ্যায়কে নির্দেশ করে।
কইরা দমনের প্লট তৈরির জন্য বিভিন্ন গল্প বানানো হচ্ছে, এবং এ কারণে কথায় কথায় হুজি এবং আনসারুল ইসলামের নামে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই হুজি বা হরকাতুল জিহাদ আসলে কারা এবং তারা কি সত্যিকার অর্থে একটি জঙ্গি সংগঠন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি। দেখা যাচ্ছে, হুজি আফগানিস্তান ফেরত কিছু বাংলাদেশী তরুণ যারা সোভিয়েত আমলে আফগান জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিল এবং পরে দেশে এসে বৈশ্বিক মুসলিম মানবতার পক্ষে জনমত তৈরি করতে চেষ্টায় নিযুক্ত ছিল।
90-এর দশকের শুরুতে হুজির কার্যক্রমগুলোকে জঙ্গি কর্মকাণ্ড বলার আগেও তারা সমাজে যথেষ্ট সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত ছিল। আফগান ফেরত যোদ্ধাদেরকে তখন ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। কিন্তু 1998 সালে হুজিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং তারা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। এরপরও বিএনপি আমলের শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর বোমা হামলায় হুজির নাম জড়িয়ে যায়, যার পেছনে ভারতের রাজনীতি কাজ করে।
ভারতীয়দের কাছে এই দুই ইসলামি দল, জামায়াতে ইসলাম ও হরকাতুল জিহাদ, একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ তারা বাংলাদেশে ভারতীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। বিশেষত, ‘জাগো মুজাহিদ’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা তাদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিল, যা 1992 সালে বাবরী মসজিদ ভাঙার পরপরই ভারতীয় সরকারের বিরাগভাজন হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে, 1998 সালে এই পত্রিকার অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা রাজনীতির নতুন পর্যায়ে প্রবেশের সংকেত দেয়।
দুই সম্পাদককে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়, যা সেই সময়কার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ ক্ষমতা আইন শুনলে 1974 সালে গঠিত গনমাধ্যম আইন মনে পড়ে, যেখানে খবরের সত্যতা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই পত্রিকার তখনকার অবস্থান একটি মেইনস্ট্রিম পত্রিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং আন্তর্জাতিক ভাবে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিজম তাদের বন্ধ করার জন্য নিন্দা ও মুক্তির দাবি জানায়।
বাংলাদেশের রাজনীতি ও ভারতীয় প্রভাবের মধ্যে একটি জটিল সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যেখানে হুজির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণা শুরু হয়। 2001 সালের পর, আওয়ামী লীগ এবং তাদের মিত্র ভারত বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য উঠেপড়ে লাগলে, হুজি সহজ টার্গেটে পরিণত হয়। এই উত্তাপে, হুজির অতীত আফগান যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
২০০৫ সালে জামা'আত-উল-জিহাদের উত্থানের পর, বিএনপি সরকারের জঙ্গিবাদ মোকাবেলার প্রচেষ্টার সময় প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের মতো পত্রিকাগুলো ফের হুজির বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন শুরু করে, যেখানে পত্রিকাগুলোতে পুলিশ এবং র্যাব কর্মকর্তার অজ্ঞাত সূত্র উল্লেখ করা হতো। গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনার পর ক্রমাগত হুজির দিকে আঙ্গুল তোলা হতে থাকে, যা ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রতিবেদনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার দুই সপ্তাহের মধ্যেই হুজিকে দোষারোপ করা হয়। ২০০৬ সালে ভারতের বিজেপির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রাজনাথ সিং উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ টেরোরিজমের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ নাকি 200টা টেরোরিস্ট ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে, এই নিয়ে শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজ একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন, যেখানে হুজি ট্যাগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আওয়ামী লীগের সেই সময়কালে, মাদ্রাসা শিক্ষকদের এবং ছাত্রদের ওপরে চাপ আসতে থাকে, বিশেষ করে হুজি ট্যাগ দিয়ে তাদের দমন করা হয়। এই ট্যাগিং পলিটিক্সে কওমি মাদ্রাসার ব্যক্তিরা যে মূর্খের মতো ঘুমিয়ে আছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই পাবলিকলি কিছু বলতে সাহস পান না, কারণ তাদের গায়েব করে ফেলা হতে পারে।
হেফাজতের শাপলা আন্দোলনের সময়ও এই ট্যাগিং পলিটিক্সের উদাহরণ দেখা যায়। 2021 সালে, যখন হেফাজত মোদির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি দেয়, তখন ডেইলি স্টার রিপোর্ট করে যে কি হুজি হেফাজতকে টেকওভার করছে। এই মুহূর্তে দেশপ্রেমিক সাংবাদিকদের কলম ছিল এবং সেই সাংবাদিকদের মধ্যে একজন সঞ্জীব চৌধুরী ছিলেন, যিনি হুজুরের ইতিহাস এবং তার বিরুদ্ধে মিডিয়া প্রোপাগান্ডা নিয়ে লেখালেখি করতেন। আওয়ামী আমলে এ পর্যন্ত যত কথিত জঙ্গি মামলার বিচার হয়েছে, সেগুলোর পুনরায় বিচার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
আব্দুল কাহার আকন্দ এবং অন্যান্য তদন্ত অফিসার এবং বিচারকদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। হাসিনার শাসনামলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের লুঙ্গি চৌধুরী মইনুদ্দিনের কাজের উল্লেখ করে বলা হয় যে, আমেরিকার ওয়ার অন টেররের প্রেক্ষাপটে এখন ভারতের গল্পও যুক্ত হয়েছে।
খায় না তাই আমাদেরও হাসিনার তথাকথিত জঙ্গি দমনের নামে ক্যাঙ্গারু ট্রাইনালের বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা মামলাগুলো নিয়ে কোনও সুষ্ঠু বিচার করতে পারছেন না। শাহ এসএম কিবরিয়ার হত্যা মামলা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই মামলায় বিএনপি এবং হুজির মধ্যে এক ঝগড়া সৃষ্টি হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের তদন্ত কর্মকর্তারাও এর সঙ্গে যুক্ত। রেজা কিবরিয়া, শাহ এসএম কিবরিয়ার ছেলে, মামলার দুর্বলতার কথা তুলে ধরে বক্তব্য রেখেছেন।
12 বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে তিনটি চার্জশিটের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই এবং বারবার মেনে নেওয়ার চাপ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় এমপির পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের ওপরও চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিচারকরা কি ধরনের বিচার করছেন তা লোকদের কাছে পরিষ্কার নয় এবং গণহারে ফাঁসির প্রচলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আব্দুল আজিজের কবিতা উল্লেখ করে শেষ করা হয়েছে যে, জুলুমের বিরুদ্ধে উচ্চারণ হবে এবং ইতিহাস সবকিছু মনে রাখবে, এমনটাই প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলা জনগণের মধ্যে এই বক্তব্য আরও গভীর একটি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

Comments
Post a Comment